
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হয়নি, তা দেশবাসীর জানা জরুরি বলে মন্তব্য করছেন প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, “আমরা কোনও দোষারোপের রাজনীতি করতে চাই না। তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে কোনও শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়, সে জন্যই একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।’’
জরুরি টিকা কেন আমদানি হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হল না, তা দেশবাসীর জানা জরুরি।”
রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম এ মুহিত এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আমরা দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখতে পাই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার তা পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে আপৎকালীন কোনো মজুতও রাখা হয়নি।
“দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকার জরুরী ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করে মাত্র এক থেকে দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।’’
এর আগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন: সমন্বিত কৌশলগত প্রচার গবেষণা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের চেয়ে বেশিদিন বাঁচছে, তবে এর সঙ্গে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপও বাড়ছে। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশই ঘটছে হৃদরোগজনিত জটিলতায়। অথচ উন্নত বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে, ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন পরবর্তী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমায়, হাসপাতালে পুনঃভর্তির হার হ্রাস করে এবং রোগীর জীবনের মান বাড়ায়।"
শুধু ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দিলেই চলবে না, কার্ডিয়াক অ্যাটাকের পর রোগীদের মধ্যে যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা তৈরি হয়, বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে সেটিকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গবেষণা এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গবেষকদের কাজ শুধু ল্যাবরেটরি বা জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তা তৃণমূলের নীতিমালায় অনুবাদ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ হৃদরোগ পুনর্বাসনে একটি টেকসই দিশা পাবে।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণার প্রধান ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর। অধ্যাপক জে এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]