
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ২০২৬ সালের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্ট্রংগার টুগেদার’ জলাতঙ্ক প্রতিরোধে মানুষ, প্রাণী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জলাতঙ্ক অত্যন্ত ভয়ংকর রোগ হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু রোগটি নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়েছে।
১. কুকুর কামড়ালেই জলাতঙ্ক হবে
এই ধারণা ভুল। সব কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত নয়। তবে সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মানুষের জলাতঙ্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ সংক্রমণের সঙ্গে কুকুরের কামড় বা আঁচড় জড়িত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. শুধু কামড়েই জলাতঙ্ক ছড়ায়
এটিও ভুল। আক্রান্ত প্রাণীর লালা ক্ষতস্থান, আঁচড় বা চোখ-মুখের মতো মিউকাস মেমব্রেনে লাগলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে অক্ষত ত্বকে শুধু চেটে দিলে সেটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর হিসাবে জলাতঙ্কের সংস্পর্শ হিসেবে গণ্য হয় না।
৩. ছোট আঁচড় হলে টিকা লাগে না
সবসময় এমন নয়। ত্বকে সামান্য আঁচড় বা ঘষা লাগলেও ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর দ্বিতীয় শ্রেণীর সংস্পর্শ-এর ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করার পাশাপাশি জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। তাই আঁচড় ছোট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. ক্ষতস্থানে মরিচ বা অন্য কিছু লাগালে জীবাণু মরে
একেবারেই নয়। ক্ষতস্থানে মরিচ, গাছের রস, অ্যাসিড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক লাগানো উচিত নয়। বরং কামড় বা আঁচড়ের জায়গা দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুতে হবে। এটিই জলাতঙ্ক প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ।
৫. রক্ত না বের হলে জলাতঙ্কের ভয় নেই
রক্ত বের হওয়াই একমাত্র বিষয় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর ক্যাটাগরি II-এর মধ্যে এমন ছোট আঁচড় বা ঘষাও রয়েছে যাতে রক্তপাত নাও হতে পারে। তাই ক্ষত থেকে রক্ত বের হয়নি বলে ঝুঁকি নেই এমন ধারণা ঠিক নয়।
৬. প্রাণীটি দেখতে সুস্থ হলে টিকা নেওয়ার দরকার নেই
সন্দেহভাজন প্রাণীকে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে জলাতঙ্কপ্রবণ এলাকায় প্রাণী পর্যবেক্ষণের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিসবা পিইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চিকিৎসক ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নেন।
৭. জলাতঙ্কের টিকা একবার নিলেই সারাজীবনের জন্য সুরক্ষা
এটিও ভুল ধারণা। সংস্পর্শের পর কী ধরনের টিকা এবং কত ডোজ প্রয়োজন, তা ব্যক্তির আগের টিকাগ্রহণ ও সংস্পর্শের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই নিজের মতো করে টিকার ডোজ কমানো বা বন্ধ করা উচিত নয়।
৮. জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসায় মানুষ নিশ্চিতভাবে সুস্থ হয়
এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল ধারণাগুলোর একটি। জলাতঙ্কের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সংস্পর্শের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় টিকা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা অন্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিলে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৯. শুধু কুকুর থেকেই জলাতঙ্ক হয়
কুকুর মানুষের জলাতঙ্কের প্রধান উৎস হলেও একমাত্র উৎস নয়। আক্রান্ত বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালা বা কামড়-আঁচড় থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। হু বিশেষ করে বাদুড়ের সংস্পর্শকেও গুরুতর এক্সপোজার হিসেবে বিবেচনা করে।
১০. কামড়ের পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিলেও সমস্যা নেই
এই ধারণা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষত ধুয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ উপসর্গ শুরু হওয়ার আগেই পিইপি-এর মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করার সুযোগ থাকে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]