‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের দাবিতে হামলার ঘটনায় নাগরিক সমাজের নিন্দা
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৪
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের দাবিতে হামলার ঘটনায় নাগরিক সমাজের নিন্দা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার শোরুমে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রি বন্ধের দাবিতে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের ৩৬ জন প্রতিনিধি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ইউপিএলের কর্মীসহ সব প্রকাশক ও বই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রি বন্ধের দাবিতে কয়েকজন ব্যক্তি ইউপিএলের বাংলাবাজার শোরুমে গিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তাঁরা দোকানের শাটার নামিয়ে দেন এবং দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করেন। পরে তাঁদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে। একটি বইকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এভাবে ভয়ভীতি দেখানো গভীর উদ্বেগের বিষয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ, সমালোচনা কিংবা তা নিয়ে বিতর্ক করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই অধিকার অন্যের বই প্রকাশ, বিক্রি বা পড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। কোনো বই নিষিদ্ধ কি না, তা আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঘোষণা ও চাপের ভিত্তিতে নয়। রাজনৈতিক মতভেদ নির্বিশেষে সব লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের জন্য এ নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য।


নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। বইটি নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন থাকতে পারে। তবে ভিন্নমত প্রকাশের পথ হলো আলোচনা, গবেষণা ও যুক্তি। বইয়ের দোকানে হামলা কিংবা বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি কোনোভাবেই তার বিকল্প হতে পারে না।


তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে প্রকাশকেরা স্বাধীনভাবে বই প্রকাশ এবং পাঠকেরা স্বাধীনভাবে বই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়বেন।


বিবৃতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে ইউপিএলের কর্মীসহ সব প্রকাশক ও বই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিসর রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সব সচেতন নাগরিককে এ ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।


বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন—বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা ও রুশাদ ফরিদী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বীথি ঘোষ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন ও আবেদা গুলরুখ, সপ্রানের গবেষণা পরিচালক মো. জারিফ রহমান, মানবাধিকারবিষয়ক গবেষক অপসরা ইসলাম তন্দ্রা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রেহনুমা আহমেদ, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ, ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের আইনজীবী মাসুদ রানা, ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, স্থপতি ও মানবাধিকারকর্মী ফারহানা শারমীন ইমু, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আমিরুল হক (তুহিন) ও সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, এলজিবিটিকিউআই+ অধিকারকর্মী ও ব্যঞ্জনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মুনতাসীর রহমান, সাফিয়া আজিম, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, স্বপন আদনান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ রাকিনুল হাকিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী রাণী ইয়েন ইয়েন, গবেষক ও নারী অধিকারকর্মী মাহীন সুলতান, ব্রেইনের পরিচালক ড. সফিকুর রহমান, নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, সামাজিক কর্মী খুশী কবির, সিটিজেনস কোয়ালিশনের সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের আইনজীবী নাফিউল আলম সুপ্ত।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com