
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, “লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হতে যাচ্ছে, কিন্তু সেটা ল্যান্ডের উপরে উঠে গেছে। অর্থাৎ এটা প্রায় স্থল নিম্নচাপ আকারে ভারতের যে সুন্দরবন বা পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।”
লঘুচাপের প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেহেতু উপরে উঠে যাচ্ছে, তারপরেও ডিপ্রেশন হয়েছে তো, খুব বেশি বৃষ্টিপাত হবে না। মানে আগে যেটা আমরা ধারণা করেছিলাম, তার চাইতেও কম হবে এখন। কারণ সিস্টেমটা শক্তিশালী হওয়ার কারণে আরও জলীয় বাষ্প সব নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
“আগামীকাল (শুক্রবার) পর্যন্ত এটার প্রভাব থাকবে। এরপর যত সময় যাবে, সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব কমতে থাকবে আমাদের টেরিটরিতে।”
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় দেশের কয়েকটি নদীবন্দরেও সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ সময়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৮১, কুতুবদিয়ায় ৫৭, টেকনাফে ৪৫, খুলনার কয়রায় ৪৪ এবং ঢাকায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গায়, ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]