
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ২টার মধ্যে এই শিশুরা মারা যায়।
এদিকে হাম প্রতিরোধী টিকা শিশুদের ৯ মাস বয়সে দেওয়া হলেও এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে।
রামেক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষমান শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসার পর অবশেষে তিন বছর ধরে খালি পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে রামেক হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে নতুন সাতটি ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র)।
হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ৪৭ জন শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ছাড়া রাজশাহীর ২৬টি, নওগাঁর চার, কুষ্টিয়ার ১২, নাটোরের চার, পাবনার চার ও মেহেরপুরের একজন শিশু ভর্তি আছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই হাসপাতাল থেকে শিশুদের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে। এটা উদ্বেগজনক। কারণ, শিশুদের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস বয়সে। এই অবস্থায় সরকার ছয় মাসেই হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, হাম যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আমরা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসোলেশন কর্নার চালু করেছি। হাম থেকে জটিলতা বাড়লে আইসিইউ লাগতে পারে। এ জন্য জনবলসহ যা যা প্রয়োজন, তা পেতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রামেক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষমান থাকা শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসার পর অবশেষে চালু হচ্ছে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল।
তিন বছর ধরে খালি পড়ে থাকা হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এসময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘আমরা তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্য সেবাগুলোও চালু হবে।’
৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ প্রায় আট বছর আগে নগরের বন্ধগেট এলাকায় শুরু হয়। তিন বছর আগেই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি বুঝে না নেওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি।
আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকা শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রাজশাহীতে আমাদের সন্তানদের মৃত্যুর বিষয় আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন আমরা সেই মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।
স্বাস্থ্যসচিব জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তাঁরা সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়—এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাঁরা রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান সচিব।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]