
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায়ের নতুন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কার্যকর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের এক নতুন মাইলফলক অতিক্রান্ত হয়েছে।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ ও আধুনিক করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও ঈদযাত্রা নিয়ে অত্যন্ত সজাগ এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নেয়া সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ১৭-১৯ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের (১৭-১৯) তারিখ পর্যন্ত ৩ দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
এরমধ্যে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পদ্মাসেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা ও যানবাহন পারাপার হয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭টি। ১৮ মার্চ টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা ও যানবাহন পারাপার হয়েছে ৪১ হাজার ৮৮৫টি। আর সবশেষ ১৯ মার্চ টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা ও যানবাহন পারাপার হয়েছে ৩৯ হাজার ২৮০টি।
অন্যদিকে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ ১ দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালের একই দিনে সর্বোচ্চ মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও চলতি বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা এবং দক্ষতার প্রতিফলন।
এবার ঈদ উপলক্ষ্যে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ দেয়া, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]