শিল্প-সাহিত্য চর্চা রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১
শিল্প-সাহিত্য চর্চা রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। তিনি বর্তমান সরকারকে একটি নৈতিক মানসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশের বিজ্ঞজনদের দিক-নির্দেশনা প্রত্যাশা করেন।


বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একুশে পদকের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়, বরং ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীগুলোকে স্মরণে আনার একটি মাধ্যম।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই পদকের মাধ্যমে গুণীজনদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে, যা রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করে।


১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। একে একটি ‘ইতিবাচক অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।’


ফেব্রুয়ারি মাসকে শেকড় সন্ধানী মাস হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অপরদিকে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’ তিনি জানান, একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এবং স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র।


এ বছর ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা সংগ্রামীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।’ একুশে পদকে ভূষিতদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রার্থনা করেন যেন তাঁদের সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ ও কল্যাণময় হয়।


বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী এক গর্বিত আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্ব সাহিত্যের জগতে আলো ছড়াবে।’


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com