দর্শনার্থী মুখর জীবন মহল এখন নীরব, অনিশ্চয়তায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০০:২০
দর্শনার্থী মুখর জীবন মহল এখন নীরব, অনিশ্চয়তায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ছুটির দিনে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার 'জীবন মহল' পার্ক দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এর হামলার পর বদলে গেছে সেই দৃশ্য।


২৯ আগস্ট, শুক্রবার দুপুরে ওই পার্কের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং একাধিকবার কড়া নাড়ার পর একজন কর্মী সেটি খোলেন।ভেতরে কয়েকজন নারীকর্মী একটি ভাঙা ভবনের পাশে বসে ছিলেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশা ও ভবিষ্যৎ জীবিকার অনিশ্চয়তা।


দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কাঞ্চন মোড় এলাকায় ‘জীবন মহল ফ্যামিলি পার্ক অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টার’। সেই পার্কে অসামাজিক ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে গতকাল বিকেলে সেখানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্কের কয়েকজন কর্মী বলেন, 'বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ বেশ কিছু দিন ধরে স্থানীয়দের উসকানি দিয়ে আসছিলেন এই পার্কটি ভেঙে ফেলার জন্য।'


সেই উসকানিতে 'ইসলাম প্রিয় তৌহিদি জনতা' ব্যানারে শত শত মানুষ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরলের কাঞ্চনঘাট বাজার এলাকার 'জীবন মহল ফ্যামিলি পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার অ্যান্ড পিকনিক স্পট'-এ হামলা চালায়। তারা পার্কে 'অসামাজিক কার্যকলাপ' পরিচালনার অভিযোগ তোলেন।


কর্মীদের ভাষ্যমতে, এখানে প্রায় ১৫০ জন নারী-পুরুষ কাজ করতেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।


পার্কের ভেতরের মসজিদও ভাঙচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি, ফলে আজ সেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি।


২০০৪ সালে ডা. আনোয়ার হোসেন জীবন চৌধুরী তার তিন দশমিক ৮৪ একর পৈত্রিক জমিতে প্রথমে একটি গোলঘর (বাসভবন) ও একটি মেডিটেশন সেন্টার গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে সেখানে পিকনিক স্পট, কমিউনিটি সেন্টার ও মৎস্য খামার, সুইমিং পুল, মসজিদ, রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়।


এর বাইরে জীবন উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এখানে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতো।


পার্কটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর।


জীবন মহলের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মেডিটেশনের সেশন হতো। পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা আসতেন। বিনা মূল্যে ওষুধও দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি এমন হামলা হবে। আমরা মনে করেছিলাম তারা সমাবেশ করে চলে যাবেন। কিন্তু এমনভাবে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। ভাঙতে কিছুই বাকি রাখেনি। অনেকে হেলমেট পরেও এসেছিল।’


জীবন চৌধুরী বলেন, 'একটি দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্কের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছিল এবং সম্প্রতি তারা ফেসবুকে পার্কটি ভাঙচুরের ঘোষণা দেয়।'


তিনি জানান, বুধবার স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের কাছে নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েও পাননি।


'বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে লোকজন জড়ো হতে থাকে এবং পরে তারা হামলা চালায়। তারা পার্কের বিভিন্ন ভাস্কর্য, রাইড, অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুর করে, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র লুট করে।'


এতে প্রায় তিন-চার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


হামলায় জড়িতদের পক্ষে মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, 'তৌহিদি জনতা অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। সে সময় জীবন চৌধুরীর লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালালে আমরা শুধু প্রতিরোধ করি।'


বিবার্তা/এসএস

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com