
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল একজন কালজয়ী কবি ও বিশ্বমানবতাবাদী মনীষীর প্রতি অবমাননাই নয়, বরং বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপরও আঘাত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষকবৃন্দ জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মহীরুহ। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাঙালির আত্মপরিচয় নির্মাণে, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে এবং বিশ্বমানবতার বাণী প্রচারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি কেবল বাঙালির নন, সমগ্র বিশ্বের সাহিত্য ও মননজগতের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা, সৌন্দর্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে আসছে।
কোনো ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন কিংবা চিন্তাধারার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্তবুদ্ধিভিত্তিক সমাজে সেই মতপ্রকাশের অধিকার অবশ্যই স্বীকৃত। কিন্তু মতভিন্নতার প্রকাশ কখনোই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক আচরণ কিংবা মনীষীদের প্রতিকৃতি বিকৃত করার মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। যুক্তি, আলোচনা, সমালোচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কই মতপ্রকাশের সভ্য ও গ্রহণযোগ্য পথ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো হীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক মহত্ত্ব, মানবতাবাদী দর্শন কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বরং সৃষ্টিশীল চর্চা, বুদ্ধির বিকাশ এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রসারের মধ্য দিয়েই এ ধরনের সংকীর্ণতার যথার্থ জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, অতি সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আবশ্যক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতার চর্চা জোরদার করাও আজ জরুরি। অনতিবিলম্বে এসব ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও দায়দায়িত্ব যথাযথভাবে নিরূপণ করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে দেশের সব প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও মুক্তবুদ্ধির মানুষকে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মননশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবৃন্দের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকগণ অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মো. আফজাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার), অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধুরী, অধ্যাপক আবু হোসেন মুহাম্মদ আহসান, অধ্যাপক ড. সমীর কুমার শীল, অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আক্তার, অধ্যাপক ড. জাভীদ ইকবাল বাঙালী, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মুজিব, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. সুব্রত সাহা, ড. আমীর হোসেন, ড. নীলিমা আকতার, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. রাফিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. সামছুজ্জোহা, অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম খাদেমুল হক, অধ্যাপক ড. তাপস কুমার বিশ্বাস, ড. এম এল পলাশ, ড. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন মোল্লা, মো. রাকিবুল হাসান, ড. ইসরাত জাহান, ড. মো. হাসান ফারুক, ড. মো. নাসির উদ্দিন, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান, মো. কামরুল হাসান, ড. সিদ্ধার্থ দে, মাহমুদুর রহমান, ড. মো. রায়হান সরকার, মো. ইব্রাহীম মিয়া, ড. আব্দুল কাদের মহিউদ্দিন, ড. মির শরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. কে এম সালাহ উদ্দীন, অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান, অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]