ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনে নীল দলের প্রতিবাদ
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩৩
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনে নীল দলের প্রতিবাদ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার শিক্ষক সংগঠন নীল দল ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন ও সংযোজনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’ ।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে যিনি একে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে সরকারি পর্যায়ে বিরোধিতা করেছিলেন, তিনিই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শত-সহস্র বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে যিনি উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁর ছবি সংযোজনের মাধ্যমে অস্বীকার করা হয়েছে এ অঞ্চলের কোটি মানুষের আত্মপরিচয় ও শিকড়ের মূলধারাকে। একই সঙ্গে অপমানিত করা হয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ভাষা শহীদদের রক্তাক্ত ইতিহাসকে— যে ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের।


ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে মূলত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিকৃতকরণ এবং ইতিহাস পুনর্লিখনের এক অপকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস, পাঁচ থেকে ছয় লাখ নির্যাতিত নারীর আর্তনাদের দলিল, শত-সহস্র বাঙালি মুক্তিযোদ্ধার বীরগাঁথা এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আলোকচিত্র ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে অপসারিত ও অদৃশ্য করা হয়েছে।


স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে নয়, বরং রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ জানা-অজানা ভাষাসৈনিকদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতিসত্তার উত্থান এবং ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী ও লিঙ্গভেদে নিপীড়িত-নির্যাতিত আপামর বাঙালি জনগোষ্ঠীর গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যা সংঘটিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বানের মাধ্যমে।


ইতিহাস নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং এর গতিধারাও পরিবর্তনযোগ্য নয়। বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি সংযোজন এবং প্রকৃত ইতিহাসের ছবি বিয়োজনের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতীকরণ ও সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির এই প্রচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com