নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৩
নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

নতুন শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জনিয়েছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।


রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনার মধ্যে কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা ও ধরে রাখতে মধ্যাহ্নভোজ, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ দেয়ার মতো বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’


প্রাথমিক শিক্ষকদের পদ ও বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন নীতিমালায় শিক্ষক পদ বাড়ানো, প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়গুলো রাখা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। শিগগিরই এর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।’


শিক্ষক সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মামলা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগে সমস্যা ছিল। অনেক জটিলতা ইতিমধ্যে কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে পিএসসির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।’


এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।’


ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, নাকি অন্য কোনো বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, সেটি মূল বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো সব শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং সেখানে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না।’


তিনি আরও বলেন, ‘চার থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের যারা শিক্ষা দেবে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যালয়কে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না।’


প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা, মূল্যবোধ ও নাগরিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও কার্যকরভাবে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষক যুক্ত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’


ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এবং কমিউনিটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com