
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ড. লুৎফুনহোসেন মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।
গুনী শিক্ষাবিদ ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে এবং ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে প্রাণীবিদ্যা ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন।
বাকৃবিতে প্রাণীবিদ্যা বিভাগে একাধিকবারসহ দুই বিভাগেই বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ছিলেনমাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সুলতানা রাজিয়া হলের প্রভোস্ট।
তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কাটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে একই বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চেকোস্লোভাকিয়ার (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) বিখ্যাত চার্লস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের সময় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজনপ্রবাসীযোদ্ধা হিসেবে কাজ করার পর স্বাধীন দেশে ফিরে এসে প্রথমে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরে ১৯৭৩ সনে যোগ দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনি এসোসিয়েশন এবং জুওলজিকাল এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের তিনি আজীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল একাডেমি (বিএএজি)-র সদস্যসহ হোপস ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপ্রধানেরদায়িত্ব পালন করেছেন আমৃত্যু।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খেলাধুলায় তাঁর চৌকস ভূমিকা ছিল, তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের (তৎকালীন উইমেন্স হলের) নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্লুজেরএকজন সদস্য। তিনি ষাটের দশকের ইস্ট পাকিস্তান অলিম্পিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান বিজ্ঞানীপ্রফেসর ড. লুৎফর রহমান, দুই কন্যা— ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)- এর শিক্ষক ড. সাবরিনা লুৎফা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফাসহ তিনজন নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাদ এশা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের বাইতুন নূর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মরহুমার নামাজে জানাজার পর তাঁকে ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আগামী শুক্রবার বাদ আছ মরহুমার জন্য তাঁর উত্তরার বাসভবনে এক দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]