
রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই শেষে পালানোর সময় পথচারীর হাতে ধরা পড়েন অটোচালক জনি। তাকে ছাড়িয়ে নিতে পথচারীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন সহযোগী বাপ্পি। তবে ছুরির আঘাত পথচারীর গায়ে না লেগে জনির বুকে বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান জনি। এ ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
রবিবার (১১ অক্টোবর) খিলগাঁও বনশ্রী পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন।
পিবিআই বলছে, ছিনতাই শেষে পালানোর সময় পথচারীদের হাতে ধরা পড়েন অটোচালক জনি (৩৫)। জনি পথচারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ছুটতে না পারায় আসামি বাপ্পি তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। কিন্তু আঘাতটি পথচারীর পরিবর্তে নিজের দলের সদস্য জনির বুকে ঢুকে আটকে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গীর আঘাতেই প্রাণ হারান জনি।
পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, হত্যার শিকার মো. জনি পেশায় অটোচালক। তিনি গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বাহির হন। পরে ভোর ৫টার দিকে কদমতলী থানাধীন জুরাইন মোক্তার হোসেন সড়কে বুকে ছুরিকাঘাত অবস্থায় পেয়ে কদমতলী থানার টহল পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ভুক্তভোগীর মা ডালিয়া (৬০) অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানার মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মেহেদী হাসান বাপ্পিকে (২৮) গত ৯ অক্টোবর রাতে কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামি মো. নুর আলম বারেক (২৪), কদমতলী এলাকা থেকে ১০ অক্টোবর রাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার আসামিরা ভুক্তভোগী জনিসহ ঘটনার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছিনতাই করার জন্য মামলার ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে দুজন পথচারীকে আসতে দেখে তারা পথচরীদের পথরোধ করে তাদের নিকট থাকা মোবাইল ও নগদ টাকাসহ পথচারী একজনের কাঁধে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
পরে আসামিরা ছিনতাই শেষে চলে যাওয়ার সময় একজন পথচারী ভুক্তভোগী ছিনতাইকারী জনিকে ধরে ফেলে। জনি পথচারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ছুটতে না পারায় আসামি বাপ্পি তার হাতে থাকা ছোরা দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। কিন্তু আঘাতটি পথচারীর পরিবর্তে ভিকটিম জনির বুকে ঢুকে ছোরাটি আটকে যায়। তখন জনি চিৎকার দিলে আসামি বাপ্পিসহ তার সহযোগী নুর আলম বারেকসহ ছিনতাই করা মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে পথচারীদের চিৎকারে পাশের গলির দারোয়ান এসে পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ জনিকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]