মোরেলগঞ্জে দুই হত্যা মামলায় ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ১৭:২৮
মোরেলগঞ্জে দুই হত্যা মামলায় ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই নেতা হত্যার ঘটনায় দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।


দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত শেষে বুধবার বাগেরহাট আমলী আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার ওসি (তদন্ত) ঠাকুর দাস মণ্ডল অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদী মো. ফরিদ আহমেদ এ সময় তার সাথে ছিলেন।


চার্জশীটে মোট ৫৮জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যার প্রধান অভিযুক্ত হচ্ছেন দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকির (৫৫)। অপর অভিযুক্তদের মধ্যে পরিষদের ৫ জন সদস্য, ১ জন দফাদার, ১জন চৌকিদারসহ একই দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে ৩০২ধারাসহ ১৪টি ধারায় অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।


গত ১লা অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী দিহিদার(৫২) ও শুকুর শেখকে(৪০) বাড়ি থেকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে হত্যা করা হয়।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী ও শুকুর শেখের হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেয় ১৯জন। যার নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান শহিদুল ফকির। এ জোড়া হত্যাকাণ্ডে মোট ৫৮জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। মামলার বাদী নিহত শুকুর শেখের ভাই ফারুক আহমেদ দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠাকুর দাস মণ্ডল বলেন, জোড়া হত্যার ঘটনায় থানা ও কোর্টে পৃথক ৩টি মামলায় মোট ৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে কিছু বাদ পড়েছে, কয়েকজনের নাম যুক্ত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তে স্থানীয় ৫৪ জনসহ মোট ৮২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।


ঘটনার দিন (১ অক্টোবর ২০১৮) থেকে তদন্ত চলাকালে পুলিশ এ মামলার আলামত হিসেবে একটি সিঙ্গেল শর্ট এলজি, ৬ চেম্বারের একটি রিভলবার, ১২ বোরের একটি শটগান, শরীর থেকে বের করা গুলির দুটি ধাতব পিলেট, ১২ বোরের ২ রাউন্ড ফায়ার্ড কার্তুজ, ১ রাউন্ড ৯ এমএম ক্যালিবারে ফায়ার্ড কার্তুজ, রক্তমাখা দাও, লাঠি, ছোরা, কুড়ালসহ অনেক আলামত জব্দ করেছে।


মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ফকিরসহ ২৬ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উচ্চ আদালত থেকে সাময়িক জামিনে আছেন ১ জন ও পলাতক ৩১ জন।


মামলাটি তদন্তকালে জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন এবং থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।


বিবার্তা/রাজু/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com