পঞ্চগড়ে
মুখ থুবড়ে পড়েছে সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম, বরাদ্দ থাকলেও নেই শিক্ষার্থী
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ২২:৪৭
মুখ থুবড়ে পড়েছে সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম, বরাদ্দ থাকলেও নেই শিক্ষার্থী
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পঞ্চগড় শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে কমলাপুর এলাকায় কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে ১৯৯৬ সালে কমলাপুর গ্রামে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে সরকার। বিদ্যালয়টি পরিচালনার দায়িত্ব পায় জেলা সসাজ সেবা অধিদপ্তর।


সরকারি ব‍্যয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়টিতে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ‍্যে সরকারি উদ‍্যোগে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা আর পরিকল্পনার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়টি।


বিদ্যালয়টিতে ১০ জন শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধাসহ ভরণ-পোষণ বাবদ জন প্রতি মাসিক বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে জনবল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শুন‍্য প্রতিষ্ঠানটি ভুতুড়ে পরিবেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।


সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় থাকার পরেও সন্ধ্যা হলেই বিদ্যালটির ক্যাম্পাসে অযাচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়৷


স্থানীয়রা বলছেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জ্ঞানচক্ষু দেয়ার পরিবর্তে এখন প্রতিষ্ঠানটি নিজেই দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।


স্থানীয়রা বলছেন, জন্ম থেকে অন্ধ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেটা প্রশংসনীয় হলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে সেটি নষ্ট হতে বসেছে । শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি অনেক ভালো করেছিল। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী বাইরে ভালো পড়ালেখা করছে। অদৃশ্য কারণে শিক্ষার্থী না থাকায় বিগত পাঁচ বছর যাবৎ বিদ্যালয়টি বন্ধ রয়েছে৷ একজন পিয়ন কাম নাইটগার্ড বিদ্যালয়টিতে সন্ধ্যায় এসে আলো জ্বালায় আর সকাল হলে এসে বন্ধ করে। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


একই ক্যাম্পাসে থাকা কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মনরোম পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে একজন অন্ধ শিক্ষার্থীর থাকাসহ পড়ালেখার সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে শুধু শিক্ষার্থী নাই। আমরা পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছি অন্ধরা কেন পাবে না?


অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম, পঞ্চগড় এর রিসোর্স শিক্ষক ও শহর সহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা ওয়ালিউল হক জানান, বিদ্যালয়টিতে জনবল সংকট ও শিক্ষার্থী না থাকায় আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রয়েছে । ঠিক কতদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে সেটি তিনি জানেন না। তিনি বলে আমার এখানে বদলি হয়ে আসার দুই বছর পার হয়েছে। এসে দেখি বিদ্যালয়টি বন্ধ। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করতে স্থানীয়সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


পঞ্চগড় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় জানান, প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করতে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ অব‍্যাহত রয়েছে। রিসোর্স শিক্ষক ও হাউস প্যারেন্টস কাম টিচার, বাবুর্চি না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রয়েছে৷ অন্ধ শিক্ষার্থীরা তো শুধু খাওয়া দাওয়ার জন্য সেখানে থাকবে না যদি তাদের পড়ালেখা না হয়।রিসোর্স শিক্ষক ও হাউস প্যারেন্টস কাম টিচার পাওয়া গেলে আবার বিদ্যালয়টির আবাসিক কার্যক্রম চালু করা হবে। বর্তমানে শুধু একজন নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ দেয়া রয়েছে বলে জানান তিনি৷


বিবার্তা/গোফরান/এসএস

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com