
রমজান এলেই ইফতারে সাধ্যমত আয়োজন করেন প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এবারের রমজানের প্রথম দিন থেকেই বেড়েছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম। কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে পঞ্চগড় ইফতার বাজারেও। বিগত রমজানে শুরু থেকেই সরগরম ছিল জেলার ইফতারের দোকানগুলো। কিন্তু এবারের রমজানের চিত্র একেবারেই ব্যতিক্রম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ইফতার তৈরিতে ডাল, তেল, চিনি, বেসন, ময়দাসহ প্রয়োজনীয় প্রতিটি সামগ্রীর দাম বেড়েছে। গেল রমাজানে ছোলা, বুন্দিয়া, জিলাপি, পিয়াজু, বড়া, বেগুনি, আলুর চপ, ডিমচপ, মাংসের চপ, টিকিয়াসহ প্রতিটি পণ্য যে দামে কেনা যেত, এবার তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের ইফতার বাজারগুলো। বেচা-বিক্রির এমন হালচালে দিশেহারা ইফতারি বিক্রেতারা।
শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বিবার্তাকে বলেন, আগে ইফতারির জন্য অনেক আইটেম কেনা হতো। দাম বৃদ্ধির কারণে এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। একই কথা বললেন রওশাবাগ এলাকার মুন্নি বেগম। সব জিনিসপত্রের দামের কারণে শুধু বুন্দিয়া কিনছি। বাকি সব বাড়িতেই তৈরি করব।
ইফতার ব্যবসায়ী বছির উদ্দিন বিবার্তাকে জানান, আমি তিন বছর ধরে ইফতারির ব্যবসা করছি। প্রথম দুই বছর ভালো ব্যবসা করেছি। গেল রমজানে করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারিনি। এবার যে অবস্থা! আমার দুইটা হোটেল। প্রথম ও দ্বিতীয় রোজায় দুই হোটেলে ৮ হাজার টাকা লস। বাধ্য হয়ে একটা হোটেল বন্ধ করে দিছি।
শহরের পুরাতন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মৌচাক হোটেলে ম্যানেজার সুজন চন্দ্র কর্মকার ও মোস্তফা বিবার্তাকে জানান, গেল বছর করোনায়ও একদিনে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকার ইফতারি বিক্রি করেছি। এবার তা নেমে এসেছে ৮-১০ হাজার টাকায়। শহরের ব্যাস্ততম এলাকায় আমাদের দুইটা হোটেল পুরাতন মৌচাক ও নিউ মৌচাক। বর্তমান বেচা-বিক্রির যে পরিস্থিতি তাতে স্টাফদের বেতন-বোনাস নিয়ে বড় চিন্তায় আছি।
ইফতার বাজারে ক্রেতা সঙ্কট- সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ইফতার সামগ্রী তৈরিতে যেসব মালামাল দরকার- তার প্রতিটির দাম বেড়েছে দেড় থেকে দুইগুণ । ফলে কম দামে ইফতার বিক্রির কোন সুযোগ নেই। যে কারণে বেচা-বিক্রিতে নেমেছে ধস।
বিবার্তা /গোফরান /রোমেল/এনএস
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]