হলের কক্ষে সাদামাটা জীবন ছাত্রলীগ সভাপতির
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১২:১৯
হলের কক্ষে সাদামাটা জীবন ছাত্রলীগ সভাপতির
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। গত ৩১ জুলাই তাকে সভাপতি করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।


ছাত্রলীগ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ কর্মী থেকে শুরু অনেকের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ব্যাপক কৌতূহল। তবে শোভন এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব।


তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, কৌতূহল আর আগ্রহের ভিড় থেকে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতেই পছন্দ করেন শোভন। রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়ার কোন ইচ্ছে নেই তার। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বদলাননি নিজেকে। অকারণে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলাও তার পছন্দ নয়।


শোভন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পরও হলেই থাকছেন। হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের ৩৩২ নম্বর কক্ষে থাকেন তিনি। কক্ষটি এক সিটের (সিঙ্গেল রুম)। কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেয়ালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।


কক্ষে আসবাবপত্র বলতে একটি চৌকি, একটি বৈদ্যুতিক পাখা, একটি টিউব লাইট, তিনটি চেয়ার, দেয়ালে সঙ্গে থাকা লকার এবং একটি আয়না। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ সাদামাটা ও অনাড়ম্বর। আলাদা করে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে না। কক্ষটি এখন পরিচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষ হিসেবে।


ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মীরা আরো জানান, শোভন বিনয়ী ও সদালাপী। প্রতিদিন ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী ও দর্শনার্থী সংগঠন এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। মনোযোগ দিয়ে তিনি তাদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী আচার-আচরণের জন্য ইতোমধ্যে তিনি প্রশংসা অর্জন করেছেন।


সকল ছাত্রলীগ কর্মীর জন্য রয়েছে তার অকৃত্রিম দরদ ও ভালবাসা। পরিশ্রম, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার কারণেও তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বচিত হওয়ার পরও শোভনের হলে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে অনেকের মধ্যে অনেক ধরণের নেতিবাচক ধারণা আছে। কেউ কেউ এও মনে করেন ছাত্রলীগ সভাপতি খুব আরাম-আয়েশে দিন কাটান। কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে একটি ভ্রান্ত ধারণা। শোভন ভাইকে কেউ যদি কাছ থেকে দেখেন তাহলে তার এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে যাবে। বাংলাদেশ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি হওয়ার পরও শোভন ভাই হলে থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ সময় হলেই খাওয়া-দাওয়া করছেন। প্রতিদিন অসংখ্য নেতা-কর্মীর কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন, নিজে কথা বলছেন। সাধারণ-সাদামাটা জীবনযাপনেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কোনো ধরনের বাহুল্য তিনি পছন্দ করেন না। হলে থাকতেই ভাইয়ের ভালো লাগে। নিজের মূল্যবোধ আর ব্যক্তিত্বের কারণেই শোভন ভাই অনন্য। এতে অনুপ্রাণিত হবে আমার মতো লাখো ছাত্রলীগ কর্মী।



“আমি যদি বাইরে থাকি, তাহলে আমার সঙ্গে ছাত্রদের একটা দূরত্ব তৈরি হবে”



এদিকে হলে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে শোভন বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমি এখনো ইউনিভার্সিটির বৈধ স্টুডেন্ট, সে হিসেবে আমার হলে থাকার অধিকার আছে। আমি হলেই থাকছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি, ছাত্রলীগ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে এবং ছাত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। আমি যদি বাইরে থাকি, তাহলে আমার সঙ্গে ছাত্রদের একটা দূরত্ব তৈরি হবে। আমি যদি ক্যাম্পাসে থাকি, সবসময় চলাফেরা করি, সব ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলি তাহলে আমাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক বন্ধন তৈরি হবে। ক্যাম্পাসে থাকলে স্বভাবতই সবার সাথে দেখা হয়। আমিতো ছাত্র-মানুষ, আমার চালচলন, চলাফেরা যদি সবসময় একজন ছাত্রের মতো থাকে তাহলে অন্য ছাত্ররা আমাকে মানবে ও সম্মান দেখাবে।


বিবার্তা/তৌহিদ/সোহান


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com