শীতে ভ্রমণের জন্য দেশের সেরা কয়েকটি স্থান
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৯:০৫
শীতে ভ্রমণের জন্য দেশের সেরা কয়েকটি স্থান
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সবুজের চাঁদরে মোড়ানো আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রকৃতি তার সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এদেশে। বিচিত্ৰ এই প্রকৃতি যেনো তার সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে সবাইকে। আমরাও কি এই ডাক প্রত্যাখান করতে পারি? তাই তো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ভ্রমণপিপাসুরা ছুঁটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এই শীতে চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন দেশের কিছু দর্শনীয় স্থান থেকে-


শ্রীমঙ্গল


চায়ের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। চা বাগানের সবুজ যেন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলা জুড়ে। চা বাগানের বাংলো, রিসোর্টে বসে উপভোগ করতে পারবেন কুয়াশামাখা ভোর। সঙ্গে এক কাপ চা হলে তা হয়ে উঠবে আরও রোমাঞ্চকর। এ ছাড়াও শ্রীমঙ্গলের বাইক্কার বিল অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। শীতের সকালে বিলে গেলে বাইক্কারবিল আপনাকে নিরাশ করবে না।


এ ছাড়াও ঘুরতে পারবেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক হুমায়ন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমার শুটিং ও হয়েছে এখানে। লাউয়াছড়া উদ্যান ঘুরা শেষে যেতে পারেন নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিন (সাতরংয়ের চায়ের জন্য বিখ্যাত), সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, চা জাদুঘর।


পঞ্চগড়


বাংলাদেশের হিমালয় কন্যাখ্যাত জেলা পঞ্চগড়। হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা। কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। প্রতিবছর শীতের সময় বাংলাদেশ থেকে দেখা মেলে এই পর্বতের। পঞ্চগড় ও তেতুলিয়া থেকে স্পষ্টভাবে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখা মেলে পর্বতের। শীতের আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকায় ভেসে ওঠে তুষারশুভ্র হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।


তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের সরকারি ডাকবাংলো চত্বর কিংবা জিরো পয়েন্ট থেকে দেখা মেলে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম পর্বতের। পাশাপাশি স্পষ্টভাবে দার্জিলিংয়ের সবুজে ঘেরা পাহাড় শ্রেণীও দেখা যায়।


মারায়ন তং


বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার মিরিঞ্জা রেঞ্জে অবস্থিত একটি পাহাড় মারায়ন তং। ত্রিপুরা , মারমা, মুরংসহ বেশকিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বসবাস এই পাহাড়ে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৬৪০ ফুট অবস্থায় মারায়ন তংয়ের চূড়া অবস্থিত। শীতের এই সময় সাদা মেঘে ঢেকে যায় পাহাড়ের চূড়া। আপনার মনে হবে আপনি সাদা মেঘের জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। তাই চাইলেই এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন মারায়ন তং।


নাফাখুম


বাংলাদেশের নায়াগ্রাখ্যাত জলপ্রপাত নাফাখুম। বর্ষায় ভয়ংকর রূপে থাকলেও শীতে অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়। এডভেঞ্জারপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের কাছে তাই পছন্দের নাম নাফাখুম। এই জলপ্রপাত দেখতে যেতে হবে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায়। যদিও পাড়ি দিতে হবে অনেকটা দুর্গম পথ। তবে এর সৌন্দর্য আপনাকে নিরাশ করবে না। নাফাখুম দেখতে গেলে ঘুরে আসতে পারবেন দেবতাখুমও।


চর কুকরি মুকরি


ভোলা জেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত একটি দ্বীপ কুকরি মুকরি। বর্ষায় ডুবে থাকলেও শীতে এই চর ভেসে উঠে। বাংলাদেশের অন্যতম সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বৃহৎ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এই দ্বীপ ৷ নাম না জানা অসংখ্যা গাছ ও সারি সারি নারিকেল গাছ সাথে বিশাল বালুময় চর দেখলে আপনার মনে হবে সৈকতে দাঁড়িয়ে আছেন। চাইলে ক্যাম্পিং করে রাত্রিযাপনও করতে পারেন দ্বীপে।


সেন্টমার্টিন


বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা নারিকেল জিঞ্জিরাও বলে। নীল আকাশের সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলের মিতালি, সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে করেছে অনন্য। শীতে সাগর শান্ত থাকায় এই সময়টা ভ্রমণের জন্য উপযোগী। নভেম্বর থেকে মার্চ এ পাঁচ মাস জাহাজ করে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। পথে দেখা মিলবে গাংচিলের।


কুতুবদিয়া দ্বীপ


নানা বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে সাগরের বুকে কুতুবদিয়া জেগে উঠে। এ দ্বীপে গেলে দেখা মিলবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদুৎ কেন্দ্রের। এ ছাড়াও ঘুরে আসতে পারবেন কুতুবদিয়া চ্যানেল, কুতুব আউলিয়ার দরবার, বাতিঘর, লবণ চাষ ও সমুদ্র সৈকতের।


সুন্দরবন


বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন। জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ সুন্দরবনের ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, বিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ বিচিত্র নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। এখানে রয়েছে ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রাজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ ধরনের সরীসৃপ এবং ৮ টি উভচর প্রাণী। সুন্দরী বৃক্ষের নামানুসারে এই বনের নাম সুন্দরবন রাখা হয়। শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এছাড়াও সুন্দরবন গেলে দেখবেন জামতলা সৈকত, মান্দারবাড়িয়া সৈকত, হীরণ পয়েন্ট, কটকা বিচ ও দুবলার চর।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com