পতাকা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “একটি পতাকার জন্য”
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২১, ১২:০৪
পতাকা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “একটি পতাকার জন্য”
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

২৩ মার্চ ঐতিহাসিক পতাকা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় শাহবাগস্থ কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান উঠোন-এর পক্ষ থেকে একটি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণা রহমান। সম্মানিত আলোচক হিসেবে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, লেখক ও গবেষক গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন অলক দাশ গুপ্ত। সূচনা বক্তব্য রাখেন অনিকেত রাজেশ।


জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণা রহমান এই ঐতিহাসিক দিনটিকে উদযাপনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।


আলোচক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ বলেন, পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লাগাতার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ৭ মার্চ স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যে ধীরে ধীরে জাতিকে যে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছিলেন, এ কর্মসূচি তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্যে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ২৩ মার্চ তখন পাকিস্তান দিবস বা লাহোর প্রস্তাব দিবস হিসেবে পালিত হতো। পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রপতি থাকলে তিনি, আর না থাকলে তার প্রতিনিধিত্ব যিনি করতেন অর্থাৎ গভর্নর উনি সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজের অভিবাদন নিতেন। কিন্তু একাত্তরে আমরা স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইশতেহারের মাধ্যমে জানিয়ে দিলাম যে, এবার ২৩ মার্চ পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়বে। ওইদিন পল্টন ময়দানে সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আমরা চারজন মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিবাদন গ্রহণ করি।


তিনি বলেন, কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা ওই ব্রিগেড ও স্বতঃস্ফূর্ত জনতাকে নিয়ে মার্চপাস্ট করে ৩২ নম্বরে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকাটি তুলে দিই। পতাকাটি গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলাম, আমার চিত্ত উদ্বেলিত হয়েছিল, উদ্যত উদ্গত উদ্ধত পূর্ণায়ত পদ্মটির মতো আমার সমস্ত সত্তা দুরন্ত আবেগে অনুভব করছিল- লক্ষ জনতার কণ্ঠ হতে জয় বাংলা স্লোগানটি ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে ইথারে ভাসতে ভাসতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।


অনুষ্ঠানে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী এবং মন্দিরা সাংস্কৃতিক পাঠশালা এব সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান উঠোন। সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান উঠোন-এর শিল্পী মারুফ হোসেন, জিনাত ফেরদৌস ছবি ও হুমায়রা ফাহমিদা একক সংগীত এবং জয়ন্ত রায় আবৃত্তি পরিবেশন করেন। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গান ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের সাথে সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান উঠোন-এর শিল্পীগণ দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। একক দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে মন্দিরার শিল্পী রেহানা। এছাড়াও একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী উঠোন-এর শিল্পী মারুফ হোসেন ও জিনাত ফেরদৌস ছবি। আবত্তি পরিবেশন করেন জয়ন্ত রায়। অতিথি শিল্পী হিসেবে একক সংগীত পরিবেশন করেন আরিফ রহমান ও টাঙ্গাইল থেকে আগত কাস্পিয়ান তানজিন কথা।


বিবার্তা/এসএ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com