স্মরণের আবরণে মরণেরে যত্নে রাখি ঢাকি
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৮, ২২:২০
স্মরণের আবরণে মরণেরে যত্নে রাখি ঢাকি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সমসাময়িক বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হুমায়ূন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ জুলাই। দেশের অগণিত পাঠক এদিন পরম শ্রদ্ধা ও মমতায় স্মরণ করবে প্রিয় লেখককে।


বাংলা কথাসাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী পুরুষ হুমায়ূন আহমেদ। তিনি লিখতেন খুব সহজ ভাষায় ; একেবারে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায়। এ কারণে জীবদ্দশায় তাঁকে সীমাহীন কটুবাক্য হজম করতে হয়েছে। এমনকি তাঁর উপন্যাসকে ‘অপন্যাস’ বলেও তীব্র তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। কিন্তু তাতে তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলায় পাঠকরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তাঁর অটোগ্রাফ নিয়েছে, বই কিনেছে। কিনেছে কারণ, তিনি বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের হাসি আনন্দ দুঃখ কষ্ট প্রেম বিরহ চাওয়া পাওয়া ও না-পাওয়ার গল্পকে পরম মমতায় বোনা নকশি কাঁথার মতো তাঁর সাহিত্যে রূপায়িত করেছিলেন।


বিচিত্র স্বভাব ও প্রতিভার অধিকারী এ মানুষটি তাঁর সাহিত্যে একদিকে সৃষ্টি করেছেন প্রবল যুক্তিবাদী মিসির আলীকে, অন্যদিকে রহস্যময় চরিত্রের হিমুকে। পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হুমায়ূন আহমেদ বিজ্ঞানকে যেমন অস্বীকার করেননি, তেমনই প্রকৃতির রহস্যময়তার প্রতিও দেখাননি অনাস্থা।


সৃষ্টিশীলতার অবিরাম তাগিদে তিনি সাহিত্যের পাশাপাশি হাত বাড়িয়েছেন টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও। সেখানেও অসফল নন তিনি। তাঁর সৃষ্ট টুনি (এইসব দিনরাত্রি) ও বাকের ভাইয়ের (কোথাও কেউ নেই) অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর স্মৃতি সংবেদনশীল দর্শককে এখনো অশ্রুসিক্ত করে। আর তাঁর ‘আজ রবিবার’ নাটকের সংলাপ ‘তুই রাজাকার’ তো চিরকালীনতা পেয়ে গেছে।


তাই হুমায়ূন আহমেদ আজ না-থেকেও আছেন ; আছেন এদেশের লাখো-কোটি সাহিত্যমনস্ক, বইপ্রেমী মানুষের মনের গহীনে।


ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই হুমায়ূন স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেমন, গাজীপুরের পিরুজালী এলাকায় লেখকের প্রতিষ্ঠিত নন্দনকানন নুহাশ পল্লীতে এ উপলক্ষে পবিত্র কোরআন খতম, বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হবে।


জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নুহাশ পল্লীতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করবেন তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং দুই ছেলে নিনিত ও নিষাদ। এছাড়া নুহাশ পল্লীতে যাবেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রকাশক ও অনুরাগীরা। যাবেন লেখক-কবিরাও। হিমু পরিবহনের কমপক্ষে ৬০ সদস্যের একটি দলও হ‌ুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানাতে নুহাশ পল্লীতে যাবে।


নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠেও এ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে কালো পতাকা উত্তোলন, প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোভাযাত্রা, আলোচনা-সভা, কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com