শিল্পকলায় থিয়েটার অঙ্গনের ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটক মঞ্চস্থ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৪১
শিল্পকলায় থিয়েটার অঙ্গনের ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটক মঞ্চস্থ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আধুনিক বাংলা নাটকের পথিকৃত, ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটকের রচয়িতা শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী। তার রচিত ‘কবর’ পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শিকার। মুনীর চৌধুরীর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিশ্রুতিশীল নাট্য সংগঠন থিয়েটার অঙ্গন আলোচনা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।


প্রবীর দত্তর রচনা ও নির্দেশনায় দলের দশম প্রযোজনা ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটকের ২৫তম প্রদর্শনী হয় এদিন।


নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন মাহবুব আমিন মিঠু। নাটকে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জীবন এবং কর্মের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। দেশের বরেণ্য এ নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সাহিত্য সমালোচক ১৯৭১ সালে বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর, আলশামসদের হাতে অন্য বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে শহীদ হন। তবে কোথাও তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। একুশের প্রথম নাটক ‘কবর’ তাকে অমর করে রাখলেও তার নিজের কোনো কবর নেই। মূলত নাটকীয় মুহূর্ত তৈরির মাধ্যমে মুনীর চৌধুরীর জীবনালেখ্যই প্রতিফলিত হয়েছে এ নাটকে।


এদেশের নব-নাট্যান্দোলনের পথিকৃৎ মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিদীপ্ত প্রচেষ্টায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় এদেশের আত্মসচেতন ও সমাজ সচেতন নাট্যভাবনার সূত্রপাত ঘটে। অল্পকাল ব্যবধানে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর গোটা দুনিয়াব্যাপী শিল্প-সাহিত্যের উদার উঠানে, যখন চিন্তার বিলোড়ন তৈরি হয়েছে তখন বাংলাদেশেও (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান) সে প্রবণতার প্রভাব ছায়া বিস্তার করেছে অনিবার্যভাবে। শিক্ষিত-সচেতন মানুষ হিসেবে নাট্যকার মুনীর চৌধুরী বিশ্বচিন্তায় মগ্ন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় থেকেই তিনি ঝুঁকে পড়েন নাটকের শিল্প কৌশলের দিকে। তার প্রথম নাটক ‘নওজোয়ান কবিতা মজলিস’ রচিত হয় ১৯৪৩ সালে।


তার নাটকে প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার নগরকেন্দ্রিক জীবনপ্রবাহ এক কর্মচাঞ্চল্যের অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পেয়েছে। আর পেশাগতভাবে শিক্ষকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় শিক্ষার্থী-অধ্যাপক-প্রক্টর-হাউসটিউটর, সাংবাদিক-উকিল-পুলিশ-ডাক্তার, নেতা, রিক্সাওয়ালা, দোকানদার-অভিভাবক প্রেমিক-প্রেমিকা প্রভৃতি চরিত্র তার নাটকের ক্যানভাসে অতি সাবলীলতায় জায়গা করে নিয়েছে। তার বহুমাত্রিক নাট্যভাবনার নির্মাণ প্রতিফলিত হয়েছে মৌলিক নাট্যরচনায় ও বিদেশী নাটকের অনুবাদ-রূপান্তরে- যেখানে বেদনার সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে কৌতুক বোধ ও এর সঙ্গে সূক্ষ্ম শৈল্পিক প্রতিবাদ। ঢাকার মঞ্চে ‘মুনির চৌধুরী’ নাটকটি অন্যরকম একটি ব্যঞ্জনা তৈরি করেছে।


নাটকে আরও অভিনয় করেছেন সাবিনা আক্তার, মো. রাজীব আহমেদ, মো. জয় আক্তার সজিব, সম্বিতা রায়, জান্নাতুল ফেরদৌস রশনি, মির্জা সাইফুল ইসলাম সুমন, অক্ষয় কুমার সরকার, মো. আলম, সিরাজুল ইসলাম, আজিম আহমেদ সালমান, মো. আবু উবায়দা প্রমুখ। নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনায় আলি আহমেদ মুকুল, পোশাক পরিকল্পনায় ড. আইরিন পারভীন লোপা, আবহ সংগীত শিশির রহমান, আলো শামীমুর রহমান। নাটকের প্রযোজনা অধিকর্তা মাহবুব আমিন মিঠু।


নাটক মঞ্চায়নের আগে অনুষ্ঠিত হয় মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, নাট্যজন মঞ্চ সারথী আতাউর রহমান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন থিয়েটার অঙ্গনের সভাপতি মাহবুব আমিন মিঠু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com