‘মদ্যপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই’
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:১৮
‘মদ্যপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

মদ্যপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। মদ পান করলে ক্ষতি হবেই। যে কোনো পরিমাণ মদপানই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মাঝে মাঝে স্বল্প পরিমাণ মদ পান স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে আগে যে কথা বলা হতো তা সঠিক নয়।


গবেষকরা এই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে একথা স্বীকার করেছেন।


গবেষকরা বলেছেন, পরিমিত মাত্রায় মদ্যপান হয়তো হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।


গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগের গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস এই বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করেছে। গবেষণায় অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে বৃহস্পতিবার এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।


এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন মদ পান করে। অপরিণত বয়সে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার জন্য সপ্তম ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস মদ্যপান। প্রতিবছর ২৮ লাখ মানুষ মারা যায় মদের কারণে।


২০১৬ সালে বিশ্বের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারী ও পুরুষের অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর জন্য মদপান দায়ী। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ।


১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯৫টি দেশে মদের ব্যবহার, অসুস্থতা ও মৃত্যুর তথ্য এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে গবেষকেরা বলেছেন, মদের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।


প্রবন্ধে বলা হয়, ডেনমার্কের মানুষ সবচেয়ে বেশি মদ পান করে। সবচেয়ে কম মদ পান করা দেশগুলোর তালিকায় আছে মুসলিম দেশগুলো। ডেনমার্কের ৯১ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ মদ পান করে। আর সবচেয়ে কমসংখ্যক পুরুষ মদ পান করে পাকিস্তানে। দেশটির মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ মদপান করে।


নারীদের বেলায় ডেনমার্কই এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দেশটির ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ নারী মদ পান করে। আর সবচেয়ে কমসংখ্যক নারী মদ পান করে বাংলাদেশে। এদেশের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ নারী মদপান করে বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে।


এই বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) অসংক্রামকব্যাধি বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদও রয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, মদ সরাসরি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়, এটা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের গবেষকেরা এক সুরে বলছেন, মদের কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই।


গবেষকেরা বলছেন, ১৫-৪৯ বছর বয়সী মানুষের ১০টি মৃত্যুর মধ্যে একটি ঘটে মদের কারণে। নিয়মিত মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। মদে অভ্যস্ত মানুষ সহিংস হয় এবং অনেক সময় নিজের ক্ষতি করে।


বিশ্বব্যাপী মানুষ কী পরিমাণ মদ পান করে, সেই হিসাব বের করতে গবেষকেরা ৬৯৪টি পূর্বের গবেষণা পর্যালোচনা করেন। এ ছাড়া মদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য আরো ৫৯২টি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এসব পর্যালোচনা শেষে গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ মদ্যপান।


২০১৬ সালের বৈশ্বিক তথ্যে দেখা গেছে, ২.২ শতাংশ নারী ও ৬.৮ শতাংশ পুরুষের অপরিণত বয়সে মৃত্যুর কারণ মূলত মদ্যপান। ১৫-৪৯ বছর বয়সীদের প্রধান মৃত্যুঝুঁকি ছিল মদসংশ্লিষ্ট কারণ। এছাড়া ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ২৭ শতাংশ নারী এবং ১৯ শতাংশ পুরুষ মারা যায় মদ্যপানসংশ্লিষ্ট ক্যানসারের কারণে।


মদ পানের কারণে বিশ্বে যক্ষায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ, সড়ক দুর্ঘটনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিজ দেহের ক্ষতির মাধ্যমে মৃত্যু হয় ১ শতাংশ তরুণের। সূত্র: বিবিসি ও পার্সটুডে


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com