ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময়...
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৭
ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময়...
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কাছে দূরে যে যেখানেই থাকুক না কেন ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে তারা ফিরে চলে আপন ঠিকানায়। অনেকের কাছে তাই ঈদ মানেই ইট-পাথরের শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে চলার আনন্দ। বছরের সবগুলো দিন নানা ব্যস্ততায় কাটিয়ে এই ঈদের ছুটিতে নগরীর মানুষ নিজের বাড়ির পানে ছোটে। কিন্তু বাড়িতে যেতে গেলেও তো কম ধকল পোহাত হয়না। আর বাড়িতে যেতে গেলে কিছু বিষয়ের মধ্যে প্রস্তুতিটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


তাই যাওয়ার আগে গোছগাছ করুন আর ভাবুন কি কি দরকার হতে পারে আপনার।


স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ফোন নাম্বার


যেখানেই ছুটিতে যান না কেন, বিপদ ঘটতেই পারে। তাই হাতের কাছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ফোন নাম্বার রাখতে হবে। যাবার আগেই ইন্টারনেট বা ফোনবুক থেকে যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেখানকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ফোন নম্বর নিয়ে যেতে পারেন।


প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়


যে কয়দিনে জন্যই ছুটিতে থাকতে হোক না কেন, নিজের এবং পরিবারের সবার জন্য কাপড়চোপড়গুলো ভালো মতো গুছিয়ে নিন। ভালো হয় আলাদা আলাদা ব্যাগ নিতে পারলে। আর তা না হলে একটি ব্যাগেই সব ভালোমতো নিয়ে নিন। আর কারো জন্য কাপড় উপহার নিলে সেগুলো একদম আলাদা করে নেবেন। এবং ফেরার সময়ে সেগুলো সামলে নিয়ে ফিরবেন। পোশাকের সঙ্গে জুতা-স্যান্ডেল নিয়ে নিন লাগেজে। সাধারণ কিছু


প্রসাধনী


আপনি ব্যাগটি গোছানোর আগে ভাবুন যে প্রতিদিন কোন কোন প্রসাধনী আপনার প্রয়োজন। এই যেমন হ্যান্ড ওয়াশ, টুথপেস্ট-ব্রাশ, স্যানিটারি সোপ, শ্যাম্পু-কন্ডিশনারের বোতল, পারফিউম, সেভিং এর জিনিসপত্র, ময়েশ্চারাইজার, সাজগোজের কিছু উপকরণ সঙ্গে নিয়ে যান অবশ্যেই। নিজেকে ফিটফাট এবং পরিপাটি করে তোলার সবই কাছে রাখুন। কেননা ছুটিতে বেড়াতে গেলে নির্বিঘ্নে তো থাকা চাই।


জুতা


ভ্রমণের সময় আপনি কোন ধরনের জুতা পরে বের হলেন, সেটাও খেয়াল করুন। জুতা জুতসই না হলে চলাফেরায় কষ্ট হয়। এ সময় মেয়েদের যতটা সম্ভব উঁচু হিলের স্যান্ডেল এড়িয়ে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরা উচিত। কারণ দীর্ঘযাত্রার সময় পরে থাকা উঁচু হিলের জুতা পায়ের রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে এবং হাঁটুতে চাপ দেয়; ফলে পায়ের হাড়ে ব্যথা হতে পারে। আবার একেবারে নতুন জুতো পায়ে কোথাও রওনা হবেন না। এতে পায়ে ফোস্কা পড়তে পারে।


পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার


প্রযুক্তির যুগে ডিভাইসগুলো ছাড়া আমাদের ছাড়া একদিনও চলে না। আর বেড়াতে গেলেও সেগুলো কাছে লাগে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য। তাই ডিভাইসকে সচল রাখার জন্য পাওয়ার ব্যাঙ্ক, চার্জার অবশ্যই ব্যাগে রাখুন মনে করে। কথা বলা ছাড়াও অনেক কাজে স্মার্টফোন কাজে লাগে। আর ফোনে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স সঙ্গে নিয়ে নিন। যাতে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। আর সঙ্গে অবশ্যই ফোন কাভার, হেডফোন সঙ্গে রাখবেন।


শুকনো খাবার


ধরুন ঈদে বেড়াতেই গেছেন, ভাবতে পারেন কাছের মানুষের বাড়িতে গিয়ে বেড়াতে গিয়ে খাবারদাবারের চিন্তা আবার কি দরকার। কিন্তু না, দরকার আছে। কিন্তু তারপরেও সঙ্গে রাখুন কিছু শুকনো খাবার। যাত্রাপথে ক্ষুধা পাওয়ারই কথা। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে খাবারের চাহিদা মেটানোর জন্য সঙ্গে শুকনো খাবার রাখা উচিৎ।


ওষুধ


ওষুধ ছাড়া তো আমাদের জীবনই অচল। যে কয়দিনের জন্য ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছেন, সে কয়দিনের জন্য যে ওষুধগুলো লাগতে পারে, তা একবারে কিনে নিয়ে নিন। আর যাদের বাধাধরা কিছু রোগ আছে, যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, আথ্রাইটিসের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে নিন। আর ডায়রিয়া, অ্যাসিডিটির হাত থেকে বাঁচতে কিছু সাধারণ ওষুধ অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।


ছাতা ও চশমা


বাসে বা ট্রেনে ওঠার আগে বেশ খানিকটা পথ রোদে হাঁটার প্রয়োজন হয়। অনেকটা সময় আবার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তখন সানবার্ন থেকে বাঁচতে ছাতা কিংবা রোদচশমা ব্যবহার করুন। শিশুরা সব সময় ছাতার নিচে থাকতে রাজি না হলে বিকল্প হিসেবে তাদের হ্যাট পরাতে পারেন।


অপরিচিতদের খাবার এড়িয়ে চলুন


ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় অপরিচিত কেউ কিছু দিলে খাবেন না। একই কথা প্রযোজ্য, ঈদ কাটিয়ে ফিরে আসার সময়ও। নতুবা বড় কোন দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। এমনকি এর ফলে মৃত্যুও হতে পারে আপনার।


শিশু ও বয়স্কদের খেয়াল রাখুন


ভ্রমণের সময় শিশুরা অধিক উত্তেজনাবশত প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। কখনো সে ব্যথা পায়, কখনো হারিয়েও যায়। এজন্য আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সঙ্গে খেলছে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। একেবারে ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে ভ্রমণ না করাই উচিত। একান্ত প্রয়োজনে বের হতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করে তবেই বাসা থেকে বের হোন। ভ্রমণের সময় শিশুদের ধুলাবালি থেকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, এদিকে সতর্ক থাকুন। শিশুদের বাইরের খোলা খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য বাসায় তৈরি কিছু মুখরোচক খাবার সঙ্গে নিয়ে নিন। তারা যথেষ্ট পরিমাণে পানি ও তরল-জাতীয় খাবার খাচ্ছে কি না, সেদিকে সব সময় লক্ষ রাখুন।


এছাড়া বয়স্ক মানুষের জন্য বাসে বা ট্রেনে ওঠা কষ্টসাধ্য হয়ে থাকে। সে সময় তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। বাসের মধ্যেও যেন তারা একই ভঙ্গিতে বেশিক্ষণ বসে না থাকে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন।


গর্ভাবস্থায় ভ্রমণে করণীয়


বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা নিরাপদেই ভ্রমণ করতে পারেন। তবে দেহে ঝাঁকির উদ্রেক হয় এমন পথ যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রথম তিন মাস ও সাত মাস বা ২৮ সপ্তাহ পেরোনোর পর ভ্রমণ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থায় একা ভ্রমণের চিন্তা করা ঠিক নয়। নিরাপদ মাতৃত্বের স্বার্থে কোনো ধরনের বিপদের ঝুঁকি নেবেন না; এজন্য যারা ৩৫ বছর পেরোনোর পর প্রথমবারের মতো মা হচ্ছেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে, যারা মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত এবং ইতিপূর্বে যারা মাতৃত্বজনিত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন, তারা এবারে ঈদের আনন্দ বাড়িতে বসেই উপভোগ করুন। অন্য যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।


ভ্রমণের সময় ব্যায়াম


বাসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় অনেকক্ষণ বসে থাকার জন্য অনেকেরই পা ফুলে যায়। গন্তব্য স্থলে যাওয়ার জন্য ছয়-সাত ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে বসে থাকার প্রয়োজন হলে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। এ সময়ে শরীরে একধরনের জড়তাও ভর করে। এ ধরনের বিভিন্ন অসুবিধা দূর করতে কয়েকটা ব্যায়াম জেনে নিন, যেগুলো বাসে বা গাড়িতে বসেই করা সম্ভব। এতে ভ্রমণ আনন্দদায়ক হওয়ার পাশাপাশি দেহও সতেজ থাকবে ।


* কিছুক্ষণ পর পর স্ট্রেচিং বা আড়মোড়া ভাঙার চেষ্টা করুন।


* বসে থেকেই হাত কয়েকবার ওপর-নিচ করতে পারেন। এতে দেহের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।


* দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে অনেকেরই পা ফুলে যায়। এ সমস্যা এড়াতে বসে থেকেই একটু পর পর দুই পা গোড়ালির ওপর ভর করে কয়েকবার ঘুরিয়ে নিন।


* শূন্যে ঘুষি মারাও কিন্তু হাতের এক ধরনের ব্যায়াম। এর মাধ্যমে দুই বাহুতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।


* বাস থামলে বা গাড়ি থামিয়ে সুযোগ পেলেই হাঁটাহাঁটি বা নড়াচড়া করে শরীরের অবসাদ দূর করুন।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com