ফিটনেসের জন্য সহজ ব্যায়াম
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৮, ১৭:৫৮
ফিটনেসের জন্য সহজ ব্যায়াম
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

স্বাস্হ্যই সকল সুখের মুল। জীবনকে সফল ও উপভোগ্য করতে এবং সর্বোপরি কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে আপনাকে ফিটনেস বজায় রাখতে হবে। ফিটনেস মুলত দুই রকম: শারীরিক ও মানসিক।
প্রত্যেকেই চায় শরীর সুগঠিত ও আকর্ষণীয় রাখতে। এর জন্য যদি আপনি খাওয়া-দাওয়াই বন্ধ করে দেন তাহলে মারাত্মক ভুল করবেন। খাওয়া-দাওয়া ঠিক রেখে ব্যায়ামের মাধ্যমেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন। তবে জানতে হবে ব্যায়ামের প্রকৃতি বা ধরন। হুটহাট করে পেশি নাড়াচাড়া করলেন এবং কিছুক্ষণ পর পরিশ্রান্ত হয়ে পড়লেন’ তাতে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না। সুন্দর শরীর গঠনের জন্য আপনার নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম রয়েছে, আপনি সেগুলোই অনুশীলন করুন। চেষ্টা করবেন দৈনিক না পারলেও সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন।


প্রার্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়ান


পা দুটোকে একত্র করে দাঁড়ান এবং হাত দুটোকে সামনে এনে প্রার্থনার ভঙ্গিতে অবস্থান নিন। পায়ের পাতার ওপর চাপ দিন এবং ঊরুর সামনের মাংস টানতে থাকুন। বুক ও মাথা ওঠানোর সময় কাঁধ দুটোকে শিথিল রাখুন। গলার পেশিতে কোনো টান রাখবেন না। এ ভঙ্গিতে অল্প করে শ্বাস নিন।


পেছন দিকে বাঁকা হোন


শ্বাস নিন এবং আপনার হাত দুটোকে মাথার ওপরে তুলুন। আঙুলগুলো সোজা রাখুন। পা দুটো যেন মাটিতে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার উত্তোলিত বাহুদ্বয়কে হাতসহ পেছনের দিকে নিয়ে আসুন। ধীরে ধীরে পেছন দিকে বাঁকা হোন।


সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ুন


শ্বাস ছাড়ুন। সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটো মেঝেতে রাখুন। খেয়াল রাখবেন, আপনার হাঁটু যেন বেঁকে না যায়। হাতের আঙুল দিয়ে পায়ের পাতা স্পর্শ করুন; তবে হাত মেঝে পর্যন্ত না পৌঁছলে হাঁটু দুটো ভাঁজ করতে পারেন। ঘাড় শিথিল করুন এবং মাথা দুই হাঁটুর সামনে ফেলে দিন। তবে পা দুটো শক্ত রাখবেন। ঊরুর পেশি এতে সংকুচিত হবে।


বাম ফুসফুস
শ্বাস নিন। আগের মতো হাত দুটোকে পায়ের পাতার কাছে আনুন। হাঁটু দুটো ভাঁজ করুন, তারপর ডান পা পেছনে নিয়ে যান। মেঝেতে এখন কেবল বাঁ পা-ই ভর করে আছে। এবার সামনের দিকে দুই বাহুর মাঝে হাঁটুর সামনে বুক নিয়ে ঠেলুন— চাপ দিন। গোড়ালি ও কাঁধ যেন সোজা লাইনে থাকে।


বুকডনের ভঙ্গি


শ্বাস ছেড়ে দিন। অন্য পা পেছনে নিয়ে যান। হাত দুটো এবং পায়ের পাতার সামনের অংশ দিয়ে সোজা মেঝেতে ভর দিন এবং নিঃশ্বাস ধরে রাখুন। পা দুটো, বাহু দুটো— সবই সোজা থাকবে, ভাঁজ হবে না কোথাও। মাথাকে মেরুদণ্ডের একই লাইনে রাখুন।


চার হাত-পায়ে বিশেষ ভঙ্গি


শ্বাস ছাড়ুন। হাঁটু দুটো ভাঁজ করে এবং নিচু করে মেঝেতে রাখুন। বাহু দুটো ভাঁজ করুন এবং বুক ও চিবুক আস্তে করে মেঝেতে স্থাপন করুন। মুখটি মেঝের সঙ্গে সমান্তরালভাবে রাখুন। পায়ের আঙুলগুলো বাঁকা করুন।


ডান ফুসফুস


শ্বাস নিন। ডান পা-কে ভাঁজ করে দুই হাতের মধ্যে আনুন। বাম পা-টা পেছনে ছড়িয়ে থাকবে। ডান পায়ের গোড়ালি মেঝের ওপর থাকবে। হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে বুক দিয়ে হাঁটুতে চাপ দিন।


শরীরকে সামনের দিকে বাঁকা


শ্বাস ছেড়ে পা দুটোকে সোজা করুন। শরীরের সামনের অংশটিকে সামনের দিকে বাঁকিয়ে এনে হাত দুটো দুই পায়ের পাতার দু’পাশে রাখুন। মাথা দুই হাঁটুর সামনে নিয়ে আসুন। পায়ে যাতে টানটান ভাব থাকে খেয়াল রাখুন। ঊরু দুটোর মাংসপেশির সংকোচন আপনি টের পাবেন।


শরীর পেছনে বাঁকান


শ্বাস নিন। হাত দুটো মেঝে ছেড়ে শূন্যে উঠাতে উঠাতে শ্বাস নিতে থাকুন। হাত দুটো মাথার ওপর দিয়ে নিন। শরীরকে নিতম্ব থেকে পেছনে বাঁকান। বুককে চিতিয়ে ধরুন। দৃষ্টি পেছনে নিন।


হাতের মাঝ দিয়ে দেখুন। সোজা রাখুন হাতের আঙুলগুলো। ওভাবেই বাঁকিয়ে রাখুন শরীরকে।


ব্যায়ামের জন্য দিনের বেলা বেশি ভালো নাকি রাত? উত্তর হলো- আপনার সুবিধা মত! আপনার জীবনধারা এবং সময়সূচী নির্ধারণ করবে আপনার জন্য উপযুক্ত সময় কোনটি, তবে উভয় ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র সুবিধা আছে।


দীর্ঘস্থায়ী অসুখধারী - ডায়াবেটিস, হাঁপানি, বাত ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকা মানে এই না যে আপনি ব্যায়াম করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার ওষুধ খাওয়া আপনার ব্যায়ামের পরিমাণ এবং সময়সূচিকে প্রভাবিত করবে।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com