পাটসৈনিক ইব্রাহিম খলিলের জীবন সংগ্রাম
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৩:৩৮
পাটসৈনিক ইব্রাহিম খলিলের জীবন সংগ্রাম
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই একটা স্বপ্ন থাকে। কেউ উকিল, কেউ ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। তবে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম একজন। গাঁও-গেরামের ছেলে। শুধু খেয়ে, পরে, ফুটবল খেলেই কাটতো শৈশবের দিনগুলো। জীবন নিয়ে তেমন কোনো স্বপ্ন ছিল না। সময়ের পালাবদলে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে নানান ঘাত-প্রতিঘাতে জীবন হয়ে উঠেছিল জর্জরিত। তবুও থেমে থাকেননি। এগিয়ে গিয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ের সাথে। অবশেষে তিনি সাফল্যের মুখ দেখেছেন পরিণত বয়সে। তিনি এখন সবার কাছে পরিচিত মুখ। পাটপণ্য নিয়ে দেশের আলোচিত বিক্তত্ব।


বলছিলাম পাটপ্রেমী এবং পাটপণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ক্রাফটভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের কথা। পাট নিয়ে কার্যক্রমের সংগঠন ‘পাটের লড়াই’ এবং ‘পাটের জন্য ভালোবাসা’-এর প্রতিষ্ঠাতা ই-ক্যাব সংগঠনের রুরাল ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


আত্মপ্রত্যয়ী ও সংগ্রামী এই পাটপ্রেমী উদ্যোক্তার সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক ঘটনা। অসংখ্যবার ব্যর্থ হয়েও দমে যাননি। বারবার কঠিন আঘাতেও ভেঙে পড়েননি। দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অদম্য ও অধ্যবসায়ী এই জীবন যোদ্ধা। আজ তিনি সফল। তিনি একজন প্রশিক্ষক। প্রতিমাসে নিজের প্রতিষ্ঠানে ‘বহুমুখী পাটপণ্য উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ’ দিয়ে থাকেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী আজ সফল উদ্যোক্তা।



১৯৬৫ সালে নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম ইব্রাহিম খলিলের। দুই বোন ও সাত ভাই। বাবা রাজধানীর ফকিরের পুলের ব্যবসায়ী। মা গৃহিনী। স্ত্রী ও ভার্সিটি পড়ুয়া দুই মেয়ে নিয়ে সুখের পরিবার তার। বর্তমানে পরিবার নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নবোদয়ে নিজের বাড়িতে বসবাস করছেন।


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আবিরপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কমার্স বিভাগে এসএসসি এবং পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা টিঅ্যান্ডটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে পাস করেন বিকম।


কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করে ইব্রাহিম খলিল বলেন, এসএসসি পাস করে ভালো কলেজে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে বাবার কাছে আসি ঢাকা শাহজানপুর। এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় পারিবারিক কিছু জটিলতার কারণে রাগ করে শাজাহানপুরে বাবার তিনতলা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। গিয়ে উঠি শহীদবাগ মসজিদের মেসে। শুরু হয় ১৭ বছরের একটা অজপাড়া গাঁয়ের ছেলের কষ্টের জীবন। এভাবে বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে নাইট সেশনে বিকম পাস করি ঢাকা টিঅ্যান্ডটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে।