অন্যের সেলুন, মুদি দোকান দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নিলেন বিএনপি নেতা
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১০
অন্যের সেলুন, মুদি দোকান দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ নিলেন বিএনপি নেতা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আফসার আলীর বিরুদ্ধে অন্যের দোকান নিজের দেখিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষি বিভাগের পরিদর্শনের সময় নিজের দোকানের পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ীদের দোকান দেখিয়ে এ ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় অলিদহ নতুন বাজার এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অলিদহ নতুন বাজারে ছানোয়ার তালুকদারের মার্কেটের দক্ষিণ পাশে প্রায় দুই মাস আগে দুই শাটারের একটি ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন আফসার আলী। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে এলে তিনি নিজের দোকানের উত্তর পাশের কয়েকটি দোকানও নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রদর্শন করেন।


​অভিযোগ অনুযায়ী, আফসার আলীর দোকানের উত্তর পাশে সাইফুলের সেলুন, আলামিনের মুদি দোকান এবং ছবুরের ইলেকট্রনিকসের দোকান রয়েছে। এসব দোকান অন্য ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন এবং নিয়মিত ব্যবহারে থাকা সত্ত্বেও তা দেখিয়ে সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, দোকানগুলোতে এখনো নিজ নিজ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা সরেজমিনে পরিদর্শনেই প্রমাণ হবে। এ ছাড়া ডিলারশিপ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীরা।


​রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, "আফসার আলীর নিজস্ব কোনো সারের গোডাউন নেই। প্রায় দুই মাস আগে অলিদহ নতুন বাজারে ছানোয়ার হোসেন তালুকদারের একটি ছোট দুই শাটারের দোকান ভাড়া নেন তিনি। কৃষি বিভাগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তার দোকানের পাশের সেলুন, মুদি দোকান ও ইলেকট্রিক মেকারের দোকান দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়, যা শতভাগ দুর্নীতির শামিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে এর সত্যতা নিশ্চিত হবে।"


​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আফসার আলী মুঠোফোনে জানান, "আমার নিজস্ব গোডাউন রয়েছে। আমি এখনো সার বরাদ্দ পাইনি। তবে আমার দোকানের পাশে একটি সেলুন, একটি মুদি দোকান ও একটি ইলেকট্রনিকসের দোকান রয়েছে। সেসব দোকানের মালিকেরা চলতি মাসেই দোকান ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। সার পাওয়ার আগেই গোডাউন সম্পূর্ণ খালি ও প্রস্তুত করা হবে।"


​কৃষি খাতে সার অত্যন্ত জরুরি ও স্পর্শকাতর একটি উপকরণ। ফলে ডিলার নিয়োগে দোকান, গোডাউন ও সংরক্ষণের বাস্তব অবস্থা যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হলে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।


​এ অবস্থায় আফসার আলীর ডিলারশিপ আবেদনের নথিপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং গুদামের বাস্তব চিত্র নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো অনিয়ম না থাকলে তা স্পষ্ট করে কৃষকদের সার প্রাপ্তি ও সরকারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।


এবিষয়ে মার্কেট মালিক সানোয়ার এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, একটা রুম ভারা নিয়েছে, তবে ২০তারিখের আগেই আরও পাঁচটা রুম ফাকা করে দেওয়া হবে।


এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক কে, এম, মনজুরে মাওলাকে একবার ফোন দিলেও তার ফোনটি রিসিভ হয়নি।


বিবার্তা/কাইয়ুম/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com