
শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে গতকাল রবিবার বগুড়ার নন্দীগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা উদযাপিত হয়েছে।
ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও কিছু বাড়িতে পূজা-অর্চনার আয়োজন করা হয়। এতে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন অংশ নেন।
নন্দীগ্রাম পৌর শহরের উত্তর কলেজপাড়া মন্দির, হাটকড়াই কালিমাতা মন্দির, হাটুয়া-আলাইপুর মন্দির ও মালঞ্চি মন্দির, কালিকাপুর, বুড়ইল, নন্দীগ্রাম হিন্দু পাড়া মন্দিরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়।
পূজা উপলক্ষ্যে ভক্তদের মধ্যে ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। গৃহস্থবাড়িতেও পূজা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন নারীরা। হাটকড়ই শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দিরের পুরোহিত অচিন্ত চক্রবর্তী বলেন, লক্ষ্মীপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ পূজায় ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর কাছে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় রীতি মেনে পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও নৈবেদ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। সবার প্রত্যাশা, মানুষের ঘরে ঘরে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করুক। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আগমন করেন। দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরাও দেবীর আরাধনা করে আসছেন। স্থানীয় গৃহবধূ আন্না রানী দাস বলেন, লক্ষ্মীপূজা আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। পরিবারের মঙ্গল, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে পূজা করি।
শিল্পী রানী বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবারে লক্ষ্মীপূজা দেখে আসছি। এখনো সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করি। পরিবারের সবাই মিলে পূজার আয়োজন করতে ভালো লাগে। কলেজ পাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অদ্বৈত কুমার আকাশ জানান, তাদের পূজার বাজেট ২০ হাজার টাকা। সন্ধ্যার পর পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তিনি বলেন, আমরা আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করছি। হাটকড়ই গ্রামের শিক্ষক বিপুল চন্দ্র বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,এগুলো আমাদের ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
বিবার্তা/মনির/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]