সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাংলাদেশি যুবকের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৫৯
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাংলাদেশি যুবকের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশের যুবক নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুরে গ্রামের অত্যন্ত পল্লীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম।


পরিবারের অভিযোগ তাদেরকে না জানিয়েই (১৪ অক্টেবর) বুধবার অতি গোপনে নজরুল ইসলামের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। নিজ সন্তানের করুন মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় পরিবারের চলছে শোকের মাতম। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্য সহ এলাকাবাসী দু-দেশের সরকারের কাছে সু-বিচার প্রার্থনা করে তাদের প্রিয় সন্তানের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচের দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।


স্বজনেরা জানান, পরিবারের সুখ আর একটু স্বাচ্ছন্দের আশায় ২০২২ সালের ১০ই নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের যুবক নজরুল ইসলাম(২২)। সেখানে যাওয়ার ৬ মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে দুইজনকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। পরের তিন বছর তিন মাস জেলে বন্দি থাকার পর, গত বুধবার নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আক্তার নামে দুই যুবক যুবতীর মৃত্যু দন্ড কার্যকর করে দেশটি সরকার।


মৃত্যুদণ্ড হওয়া নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, জেলে থাকার পরও প্রতি রবিবার পরিবারের সাথে কথা বলতেন, নজরুল ইসলাম। কিন্তু হঠাৎ করে পরিবারের সদস্যদের কাউকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে গত বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। গণমাধ্যমের খবরে বুধবার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নজরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে শোকে তারা বারবার কান্নায় মুর্চ্ছা যাচ্ছেন।


নিহতের পিতা আব্দুল বাছির জানান, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বাকরুদ্ধ এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।


তিনি জানান, নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে তার আপন ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কি করেছে আমি জানিনা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।


এদিকে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড খবর পাওয়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন। গ্রামের বাসিন্দারা রাহাত ও মাইনুদ্দিন দাবি করেন, সৌদি আরব সরকার কট্টরনীতি থেকে উদারনীতিতে এসে সিনেমা হল সহ অনেক কিছুই উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আইনের ও কট্টরনীতি থেকে রক্ষন নীতিতে এসে কিছুটা সংশোধন করারও প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। এছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। পরিবারের উপার্জন ক্ষম দরিদ্র কৃষক পরিবারের নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দুই দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তারা।


কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com