সিলেটে হৃদয় হরিজন হত্যা: নরসিংদী থেকে ৩আসামি গ্রেফতার
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০০
সিলেটে হৃদয় হরিজন হত্যা: নরসিংদী থেকে ৩আসামি গ্রেফতার
সিলেট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

সিলেট নগরের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি এলাকায় হৃদয় হরিজন (৩৩) হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামির মধ্যে তিনজনকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমিন আহমদসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—ইমন আহমেদ (২৬), রুমান আহমদ সাজ্জাদ (২৫) ও পারভেজ (২২)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সংলগ্ন রাজু স্টোরের বিপরীত পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় হৃদয় হরিজনকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ ঘটনায় নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি ১২ অক্টোবর দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১৯; দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় এটি রুজু করা হয়েছে।


ভিডিও ধারণে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ


পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আমিন আহমদ (৩৫) নিহত হৃদয় হরিজনের বর্তমান ঠিকানার ভবনের সামনে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় হৃদয় তাঁকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।


অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় আমিন আহমদ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে হৃদয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমিন আহমদ রাস্তা থেকে হৃদয়কে ডেকে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সংলগ্ন রাজু স্টোরের বিপরীত পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।


এতে হৃদয়ের বাম পায়ের হাঁটুর সামনের ও পেছনের অংশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।


পরে স্থানীয় লোকজন ও নিহতের স্বজনদের সহায়তায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদীতে অভিযান


হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গোপন তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।


এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর), সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালী জোন এবং কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।


১৫ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে পরিচালিত অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি ইমন আহমেদ, ৩ নম্বর আসামি রুমান আহমদ সাজ্জাদ এবং ৪ নম্বর আসামি পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ইমন আহমেদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা ও একটি গ্রেফতার পরোয়ানা রয়েছে। রুমান আহমদ সাজ্জাদের বিরুদ্ধে দুটি চুরির মামলা ও দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। অন্যদিকে পারভেজের বিরুদ্ধে পাঁচটি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


প্রধান অভিযুক্ত আমিন আহমদ পলাতক


এ মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আমিন আহমদ (৩৫) এখনো গ্রেফতার হননি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন নালিয়া গ্রামে এবং বর্তমান ঠিকানা শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন বটেশ্বর এলাকায়।


পুলিশ জানিয়েছে, আমিন আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, মাদক ও মারামারিসহ মোট ছয়টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁকে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে গ্রেফতারদের


পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার তিন আসামিকে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় অভিযান চালানো হচ্ছে।


উল্লেখ্য, হৃদয় হরিজন হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামির মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হলেও প্রধান অভিযুক্ত আমিন আহমদ এখনো পলাতক রয়েছেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com