প্লাস্টিক দানবের গর্জন পাঠশালা ও উপাসনালয়ের শান্তি গিলছে অবৈধ কারখানা
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৪৫
প্লাস্টিক দানবের গর্জন পাঠশালা ও উপাসনালয়ের শান্তি গিলছে অবৈধ কারখানা
​কাইয়ুম মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ
প্রিন্ট অঅ-অ+

নদী পারাপারের পরিচিত বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট। যে স্থানটিতে থাকার কথা ছিল নির্মল বাতাস আর গ্রামীণ নীরবতা, সেখানেই এখন দিন-রাত চলছে এক বিষাক্ত 'প্লাস্টিক দানবে'র তাণ্ডব।


সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট এলাকায় আবাসিক পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গড়ে উঠেছে ৪-৫টি অবৈধ প্লাস্টিক ক্রাশিং ফ্যাক্টরি।


নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত ভারী মেশিনে পুরনো প্লাস্টিক কেটে বস্তাবন্দি করায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যাহত হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনা।


​শব্দদূষণে বিপন্ন শিক্ষা ও ইবাদত:
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাগুলোর একদম কোল ঘেঁষেই রয়েছে স্থানীয় বিদ্যালয় ও মসজিদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিকট শব্দে অনবরত চলছে প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন।মেশিনের শব্দে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের কণ্ঠ ভেসে যাচ্ছে অজানায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।


অন্যদিকে, এই মেহেীদ ফকির ,শামসুল, জলিলের প্লাস্টিক কাটার ভারি মেশিনের বিকট শব্দের দাপটে পাশের মসজিদে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে মুসল্লিদের।​


ঝুঁকিতে ফুসফুস, মিলেনি পরিবেশের ছাড়পত্র: শুধু শব্দই নয়, বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠছে চারপাশের বাতাস। পুরনো প্লাস্টিক গুঁড়ো করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা। বিষাক্ত এই ধুলোবালি ও কণা ফুসফুসে প্রবেশ করায় স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসিক এলাকায় এভাবে কারখানা চালানোর পেছনে নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স। আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো এক অজানা খুঁটির জোরে অবাধে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব কারখানা।


​স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, বসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে এভাবে কারখানা না চালাতে বারবার অনুরোধ করা হলেও কারখানা মালিকেরা তা কানে তোলেননি। এতে দিন দিন এলাকার মানুষের ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে।


​এলাকাবাসী, মসজিদের মুসল্লি ও স্কুলের অভিভাবকদের এখন একটাই দাবি—শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের শান্তিতে ইবাদতের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে এসব অবৈধ ফ্যাক্টরী অপসারণ ও সিলগালা করা হোক। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)"র" জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বিবার্তাকে জানান, প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন ব্যবহারে পরিবেশের কাজ পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/কাইয়ুম/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com