বন্দী অবস্থায় ২০ পরিবারের মানবেতর জীবন, এক মাসেও মেলেনি সমাধান
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৬
বন্দী অবস্থায় ২০ পরিবারের মানবেতর জীবন, এক মাসেও মেলেনি সমাধান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সেখানে বসবাসরত প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়েপড়েছেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ওইসকল পরিবারের সদস্য ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতেকরে বন্দী অবস্থায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের
হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় স্থানীয় আরজেত আলী ও তার ভাইদের
কাছ থেকে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন
অন্তত ২০টি পরিবার। জমি বিক্রির সময় আরজেত আলী তাদের জমির পাশ দিয়ে ৬ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রয়েছে বলে সেসময় আশ্বস্ত করেছিলেন। আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ওই পরিবারগুলো দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন।


সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় হিটু ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জমি বিক্রেতা আরজেত আলীকেজানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পরে চলাচলের সুবিধার জন্য জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ তাদের।


ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে যাতায়াতের রাস্তা দেখিয়েই আমাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। এতোদিন আমরা ওই রাস্তা ব্যবহার করেছি। এখন পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের চলাচলের রাস্তা বা পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা চলাচলের জন্য জমি কিনে নিতে চাইলেও তারা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়।


অপর ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বাঁশের রেলিং দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। বন্দী অবস্থায় শিশু, বয়স্ক মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছি। স্কুল-কলেজেপড়য়া ছেলে মেয়েদেরও যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হিটু বলেন, আমরা জমি বায়না করেছি। বায়নাসূত্রে জমিটি দখলে নিয়েছি। বায়নানামা দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্যকরেননি।


এলাকাবাসী জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে ওইসকল পরিবারগুলোর। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় এ নিয়ে বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত রাস্তা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থাকরার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।


এমন পরিস্থিতিতে চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। পাশাপাশি দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভুমি) কাছেও প্রতিকার চেয়েআবেদন করেছেন তারা।


এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেসমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করবো।


দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয়ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মানুষের চলাচলের রাস্তা মৌলিক অধিকারের একটি অংশ। সেই রাস্তা বন্ধ করে জনসাধারণের মৌকি অধিকার হরণ করা হচ্ছে। যা মানবাধিকারের শামিল। বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখারদাবি সকলের।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com