বিক্ষুব্ধ জনতার দেয়া আগুনে পুড়লো কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ২ আসামির বাড়ি
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৯
বিক্ষুব্ধ জনতার দেয়া আগুনে পুড়লো কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ২ আসামির বাড়ি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজন ও এলাবাসি দুপুরে দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন।


এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গ্রেফতার আসামিদের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করেন।


গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— রাজবাড়ী সদর থানার দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪) ও মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।


পুলিশ সুপার জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ দল দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে।


তিনি বলেন, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।


গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি ও পেট কাটা অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মামলাটি নথিভুক্ত হয়।


পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের পেট কেটে বস্তাবন্দি করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।


তিনি আরও বলেন , গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে একটি ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে একটি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সর উপপরিচালক জানান, বক্তারপুর গ্রামের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস একটি দল সেখানে কি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর রঘুনাথপুর গ্রামে আর একটা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনগন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলেও ক্ষুব্ধ জনতা আমাদের আগুন নেভানোর কাজ করতে দিচ্ছে না।


রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, আমি এখন পর্যন্ত দুটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জেনেছি। এর মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের শিকার রোহানদের যাদের সাথে জামি নিয়ে বিরোধ আলাল সরদার আর একটি তার বোনের বাড়ীতে।


ক্ষুব্ধ জনতা আগুন নেভাতে বাধা দিচ্ছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, রঘুনাথপুর গ্রামে যে বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। সেই বাড়ির কাছাকাছি জলের উৎস হচ্ছে রোহানদের পুকুর। এই জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ঐ পুকুর থেকে পানি নিতে দিচ্ছে না। তবে ফায়ার সার্ভিস বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি।


বিবার্তা/মিঠুন/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com