
১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গার ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালটির উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন হয়নি। এদিকে সময়ের সঙ্গে শহরের আয়তন, যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা এবং বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বেড়েছে। ফলে জায়গার সংকটে প্রতিদিনই টার্মিনাল এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
টার্মিনাল সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৮১ সালে যে পরিমাণ জায়গা ও অবকাঠামো নিয়ে টার্মিনালটি চালু হয়েছিল, দীর্ঘ সময়েও তার তেমন পরিবর্তন হয়নি। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন রুটে অসংখ্য বাস চলাচল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিএনজি, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চাপ। ফলে টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।
বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী প্রান্তিক পরিবহনের লক্কড়-ঝক্কর ও ফিটনেসবিহীন বাস নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, অনেক বাসের আসন ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অত্যন্ত নিম্নমানের। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রান্তিক পরিবহনের বেশ কয়েকটি পুরোনো বাস। এসব বাসের অনেকগুলোরই বাহ্যিক অবস্থা জরাজীর্ণ। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রান্তিক পরিবহনের চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, মালিক যে গাড়ি দেন, আমরা সেটিই চালাই। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কর গাড়ির দায় মালিকদের। প্রান্তিক পরিবহনের অধিকাংশ গাড়িই পুরোনো।
ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিরালা পরিবহনের যাত্রী সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান এবং ধলেশ্বরী পরিবহনের যাত্রী এএসআই শাজাহান বলেন, বাসের আসনগুলো ভালো নয়। অনেক আসনে ছারপোকার সমস্যাও রয়েছে। সিটিং সার্ভিস বলা হলেও বিভিন্ন স্থানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো হয়। এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা। তবে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার বিষয়টি ইতিবাচক বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন,দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রুট থেকে লক্কড়-ঝক্কর বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। নিরালা পরিবহনের জন্য নতুন করে কাউন্টারের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা পরিবহনের ধরন যেমনই হোক, নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। আমরা যাত্রী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। নতুন বাস টার্মিনালের যানজট নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বিবার্তাকে বলেন, শহরে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত সিএনজি, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে।অটোরিকশাগুলো দুই শিফটে পরিচালনার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। শহরের যানজট কমানো গেলে নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার যানজটও অনেকটা কমে আসবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, ১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত টার্মিনালটি ২০২৬ সালেও একই জায়গায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ এই সময়ে টাঙ্গাইল শহর ও জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বেড়েছে বাস, সিএনজি ও অটোরিকশার সংখ্যা। ফলে পুরোনো অবকাঠামো দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যাত্রীদের দাবি, দ্রুত নতুন বাস টার্মিনালের জায়গা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ এবং টার্মিনাল এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]