
টাঙ্গাইল ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি লিফটের মধ্যে পাঁচটি বিকল থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। বহুতল ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগে যাতায়াতের জন্য লিফটের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ, বয়স্ক, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল লিফট মেরামতের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। এ বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে লিফটগুলো সচল করার কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, লিফটের সামনে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সারি। ১৫ তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে যাতায়াতের জন্য লিফটের বিকল্প সীমিত হওয়ায় অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পঞ্চম তলায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শম্ভুনাথ পাল নামে এক অসুস্থ রোগীকে লিফটের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান বলে স্বজনরা জানান। স্বজনরা খবরের কাগজ দিয়ে তাকে বাতাস করছিলেন। তারা জানান, রেডিওলজি বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর নিচতলায় যাওয়ার জন্য লিফটের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
লিফটের দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিকিৎসা নিতে আসা ফারুক হোসেন, আনিসুর রহমান ও সালমা বেগম। তারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও লিফটে উঠতে পারছেন না। এতে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এক রোগীর স্বজন বলেন,মুমূর্ষু রোগী নিয়ে লিফটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে এর দায় কে নেবে?
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রায় ৮৪০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতালের অনুমোদিত ৭৪০ জন ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩২২ জন। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি জনবল সংকটও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
হাসপাতালে লিফট বিকল থাকার পাশাপাশি জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, হাসপাতালের ১২টি লিফটের মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি বিকল রয়েছে। লিফট মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১২টি লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের।
তিনি আরও বলেন,গণপূর্ত বিভাগ ওটিজি ও ক্রিয়েটিভ এই দুটি কোম্পানির মাধ্যমে লিফটগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। হাসপাতালে সব ধরনের ক্রয় ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে হয়। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
জনবল সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ৭৪০ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৩২২ জন কর্মরত রয়েছেন। এ কারণে সেবা দিতে আমাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, লিফট বিকলের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পাল বিবার্তাকে বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বর্তমানে চালু আছে। বাকি পাঁচটি এখনো সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে এগুলো চালুর জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিকল লিফটগুলো মেরামতের জন্য কিছু ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, যেগুলো টাঙ্গাইলে পাওয়া যায় না। ঢাকা থেকে এসব যন্ত্রাংশ আনতে হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লিফট কোম্পানিকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ১২টি লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল পাঁচটি লিফট সচল করা সম্ভব হবে।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]