ফেনীতে খাল খননের ১২ কোটি টাকার মধ্যে ৮ কোটি টাকাই ফেরত
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩
ফেনীতে খাল খননের ১২ কোটি টাকার মধ্যে ৮ কোটি টাকাই ফেরত
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

ফেনীতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সাতটি খালের কাজ শেষে প্রায় আট কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১২ কোটি টাকার মধ্যে উদ্বৃত্ত ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গেছে। কাজ চলাকালীন নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ কারনেই উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১২ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৭৫ ভাগ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।


প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, সোনাগাজীর ডাঙ্গি খালের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যেখানে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফুলগাজীর তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের জন্য বরাদ্দ ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। পরশুরামে বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ৩ কিলোমিটার খননে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এছাড়া ফেনী সদরের মোহাম্মদ আলী খাল ও দাউদপুর মধুয়াই খাল খননের পর উদ্বৃত্ত থেকে যায় এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং দাগনভূঞার দুটি খালের কাজ শেষে ৬১ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কাজগুলো বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় এবং নির্ধারিত মজুরিতে দিনমজুর না পাওয়ায় খননকাজে খননযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে কাজের গতি বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বাবদ বরাদ্দ থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।


এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক বলেন, ফেনীর খালখননের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ৭৫ ভাগ টাকা ফেরত না দিয়ে প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো দরকার ছিল।


ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন। বিশেষ করে কৃষির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালগুলো সহায়ক হবে'।


বিবার্তা/মনির/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com