
টানা কয়েকদিনের বন্যার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এখনো চরমে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় ভেসে উঠছে ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপক ক্ষতচিহ্ন।
সাতকানিয়া বাঁশখালী সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং কিছু কিছু গ্রামীণ সড়কও পানিমুক্ত হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার সন্তোষীর দরগা এলাকায় এখনো হাঁটু পরিমাণ পানি রয়েছে।
শনিবার গভীর রাত থেকে সেখানে পানি কমায় রবিবার সকাল থেকে সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে।
উপজেলার সোনাকানিয়া, ছদাহা, মাদার্শা, কেঁওচিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ এবং সাতকানিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। তবে উপজেলার অন্যান্য নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি তেমন কমেনি।
যেসব এলাকায় বন্যার পানি কমেছে সেখানে গ্রামীণ সড়কের ক্ষতবিক্ষত রূপ দেখা যাচ্ছে।
পৌরসভার সামিয়ার পাড়াসহ একাধিক স্থানে সড়ক ভেঙে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে পানিবন্দি এলাকায় বিতরণ করছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এসব ত্রাণসামগ্রী পর্যায়ক্রমে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন জানান, ইউনিয়নের কিছু এলাকায় পানি কমলেও অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।
মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো ফেরেনি উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আরও ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানান তিনি।
বিবার্তা/জয়দেব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]