
চারদিক ডুবে আছে বন্যার পানিতে। সেইসঙ্গে প্লাবিত হয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি। এই অবস্থায় অসুস্থতায় মৃত্যু হওয়া এক ব্যক্তির লাশ দাফনের জন্য নেওয়া হয়েছে কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে। এই পরিস্থিতিতে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
রবিবার (১২ জুলাই) লাশ ভেলা ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানির জন্য কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে লাশ কবরস্থানে নেওয়ার এই ঘটনা ঘটে। মূলত ঘটনাটি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে।
মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক। অসুস্থতাজনিত কারণে গত শুক্রবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন। বন্যার পানিতে ফোরকানের বাড়ি এলাকা ও পারিবারিক কবরস্থানসহ সব জায়গা ডুবে ছিল। যার কারণে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যায়নি। বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে ফকির মুড়া এলাকায় ওই দিন রাতেই তাহাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্যার কারণে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের দস্তিদারহাটে নিয়ে গিয়ে ফোরকানের লাশের গোসল দেওয়াসহ দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। এরপর ওই এলাকার ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় রাত ১০টার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে সেখানে পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন করা হয় ফোরকানকে। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।
উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
ফোরকানদের বসতবাড়ি, কবরস্থান ও চলাচলের পথ প্লাবিত থাকায় তার লাশ কলাগাছের ভেলায় করে শুকনাস্থানে নিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর সরকারি জায়গায় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাটি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে সরকারি খাস জায়গায় লাশটি দাফন করা হয়। লাশটি এভাবে ভেলায় ভাসিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। আমাদের অনেক স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত ছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে আমরা দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]