কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে একরাতে ৭ জন নিহত
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে একরাতে ৭ জন নিহত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

চট্টগ্রামের কক্সবাজার ও বান্দরবানে একরাতে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই এলাকার ৫ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী এলাকায় ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার।


চকরিয়ায় নিহতরা হলেন- স্থানীয় আবদুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩) এবং কাজলের কন্যা রুমি আক্তার (১৩)।


অপর দিকে একই দিন ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলায় আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই এলাকার ৫ জন নিহত হয়েছেন।


নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য ঘটনায় এক দম্পতি রয়েছেন।


নিহতরা হলেন: একই এলাকার মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মো. সোলেমান (৫), মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে। ওই সময় পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।


এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫)।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।


পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনও সেখানে যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়াতে যোগাযোগ ব্যাহত।


এদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।


বন্যা পরিস্থিতি কেবল চকরিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই; জেলার ঈদগাঁও, রামু, টেকনাফ ও উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ পানি সংকটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com