
রাঙামাটির লংগদুতে এশিয়ান প্রজাতির একটি বয়োবৃদ্ধ পুরুষ বন্যহাতি মারা গেছে। লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে হাতিটি মারা যায়।
হাতিটির মৃত্যুতে শোকে কাতর হয়ে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার সঙ্গিনী। শোকাহত অবস্থার দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝে হৃদয়বিদারক পরিবেশের জন্ম দেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দফায় চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। ১০ এপ্রিল থেকে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রবিবার সকালে ভাসান্যাদাম এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা হাতিটির মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি বন বিভাগকে জানান।
স্থানীয় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের লিডার মো. জয়নাল বলেন, এদিন সকালে আমরা বন্যহাতিটিকে মৃত দেখতে পাই। বেশ কিছুদিন ধরে হাতির চিকিৎসা চলছিল। এটি এই এলাকার সবচেয়ে বড় হাতি ছিল। অসুস্থ অবস্থায় হাতিটি লোকালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। বনে পাঠানোর চেষ্টা করলেও যেত না। সঙ্গে সব সময় একটি হস্তিনী তার পাশে থাকত। হাতিটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর হয়ে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে হস্তিনীটি। মরা হাতির পাশে লোকজন যেতে চাইলে সঙ্গী হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, হাতিটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসক দল হাতিটিকে চিকিৎসা দেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইআরটি টিম সকালে হাতিটিকে খাবার মাধ্যমে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য সেখানে যায়। পরে হাতিটির মৃতদেহ দেখতে পান। মৃত পুরুষ হাতিটির বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর।
তিনি আরও বলেন, মৃত হাতিটির পাশে সঙ্গী হাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে তারা মূলত শোক প্রকাশ করে। সঙ্গী হাতিটি সরে গেলে মৃত হাতিটির দেহ মাটিতে পুঁতে দাফন করা হবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]