
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিদেশি মোবাইল অপারেটরদের অনুকূলে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে যা টেলিকম সেক্টরে বিদেশি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে।
বিটিআরসি'র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৪ জানুয়ারি ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের মোট ৪৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৫ মেগাহার্টজ এর জন্য অকশন অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অপারেটরদের মধ্যে অকশনে নির্ধারিত দামের ভিত্তিতে চাহিদা প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিক্রয় যোগ্য হবে। এদিকে, ৩জি ও ৪জি চাটেলিটককে তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হলেও ৫জির সময় টেলিটককে প্রয়োজনীয় তরঙ্গ দেয়া হচ্ছে না।
বিআরটিসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিটিআরসি এবং সকল অপারেটরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আগামী ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫জি স্পেক্ট্রাম অকশন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় উপস্থিত একটি বিদেশী মোবাইল অপারেটরের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ না রাখার আহবান জানায় এবং বিটিআরসি এতে নীতিগতভাবে একমত হয়। এটাকে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণে বিদেশী কোম্পানিগুলোর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বলে মনে করছেন টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসির এই ধরণের সিদ্ধান্ত শোনার পর টেলিকম শিল্প বিশেষজ্ঞরা এটিকে দেশের আইটি শিল্প, উদ্যোক্তা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মারাত্মক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করছেন। "এখানে জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটককে অকার্যকর করার মাধ্যমে বিদেশী অপারেটররা ৫জি মার্কেট সেবায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে। ৫জি সেবার মানোন্নয়নে প্রতিযোগিতা কমবে এবং সেবামূল্য বাড়বে" বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ গ্রাহক, যাদের বেশিরভাগই টেলিটকের সেবাগ্রহীতা, তাদের জন্য টেলিটককে ৫জি ফ্রিকোয়েন্সি না দেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
এই বিষয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, “সরকার বিদেশিদের সব দিয়ে দেয়ার মিশন নিয়েছে। যে খাতগুলো লাভজনক, সেখানে বিদেশিদের আনছেন একের পর এক। তারা কোনো ঝুঁকি নেবে না, শুধু ক্রিমটা তুলে নেবে। চট্টগ্রাম বন্দরের কথা ভাবেন—কোনো টেন্ডার ছাড়াই ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কোম্পানি’কে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার যতদিন আছে, এদের কাছে কান্নাকাটি করলে শুধু চোখের পানি নষ্ট হবে। তারা একটা মিশন নিয়ে এসেছে। শুনছি ফেব্রুয়ারি পর্যন্তই এই মিশন চলবে—যদি কথা রাখে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কথা না রাখারই নজির বেশি।”
ফাইবার অ্যাট হোমের ডিএমডি সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “বিদেশিরা সব লেয়ারে ঢুকতে পারবে, দেশীয় উদ্যোক্তারা পারবে না। এটা আগের নীতির পুরো উল্টো। আগে লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে উৎসাহ দেওয়া হতো, এখন তাদের শেষ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটা সময় বাংলাদেশের টেলিকম খাত বিদেশি ছাড়া চিন্তা করা যেত না। এখন আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। এই সেক্টর কি পুরোপুরি বিদেশিদের হাতে তুলে দেব?”
উল্লেখ্য বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর আগমনের প্রায় ১০ বছর পর টেলিটক তার যাত্রা শুরু করে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য টেলিটককে সরকারি বিনিয়োগের উপর নির্ভর করতে হয়। ১০ বছর পরে ইন্ডাস্ট্রিতে আগমন এবং সরকারের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে বিনিয়োগের দরুন টেলিটক দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পায়নি। ফলে বর্তমানে অন্যান্য অপারেটরদের তুলনায় প্রায় এক চতুর্থাংশ বিটিএস নিয়ে টেলিটক সেবা দিয়ে আসছে।
বিবার্তা/রিয়াজ/এসএস
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]