গৌতম বুদ্ধের বাণী ধারণ করলে শান্তির সমাজ গড়ে উঠবে: রিজভী
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০৭
গৌতম বুদ্ধের বাণী ধারণ করলে শান্তির সমাজ গড়ে উঠবে: রিজভী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গৌতম বুদ্ধের বাণী আমরা যদি চর্চা করি, গ্রহণ করি এবং মনের মধ্যে ধারণ করি তাহলে একজন সঠিক শুদ্ধতম মানুষ হিসেবে সমাজে চলতে পারব। একই সঙ্গে একটি শান্তির সমাজ গড়ে উঠবে।


রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবো এলাকায় অবস্থিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ।


অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, পৃথিবীতে আসা মহামানবরা কোনো ভেদরেখা করেননি। অন্ত্যজ শ্রেণি আর উচ্চশ্রেণি তারা করেননি। সব শ্রেণিভেদকে নির্মূল করে মানবজাতির কল্যাণের জন্য কথা বলে গেছেন। গৌতম বুদ্ধের বাণী আজকে আমরা সবাই, যে যেই ধর্মেরই লোক হোক না কেন, যদি চর্চা করি, অনুশীলন করি, গ্রহণ করি এবং মনের মধ্যে ধারণ করি, তাহলে একজন সঠিক শুদ্ধতম মানুষ হিসেবে সমাজে চলতে পারব। সেই সমাজটিও হয়ে উঠবে অত্যন্ত শান্তিকামী, পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ। সেই সমাজই হবে একটা শান্তির সমাজ, সমৃদ্ধির সমাজ এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সমাজ। সেই সমাজ গড়ার কথাই গৌতম বুদ্ধ বলে গেছেন।


তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে, তা হলো চিত্তের পরিশুদ্ধির কথা। বর্ষাবাস শেষ হচ্ছে এবং নতুন ভিক্ষুদের কাছে তাদের অতিবাহিত বছরে কোনো পাপবোধ হয়েছে কিনা, কোনো অন্যায়-বিচ্যুতি হয়েছে কিনা, সেটা কনফেশন করে তার শেষ হবে। তারা নতুনদের কাছে তা প্রকাশ করবে। এটার তাৎপর্য যদি বিশ্লেষণ করি, তাতে এটাই বোঝা যাবে, কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় হিসেবে নয়, একজন মানুষ যদি তার বছরের নানা ঘটনা মনে করে যে এটা অন্যায় হয়েছে, অপরাধ হয়েছে যেটা তিনি ঠিক করেননি, তা যখন সে স্বীকারোক্তি দেবে তারই আরেকজন সহকর্মীর কাছে, নিশ্চিতভাবে সেই মানুষটির মধ্যে পরবর্তীতে কোনো অপরাধবোধ বা অপরাধ করার কোনো সুযোগ থাকবে না।


রিজভী আরও বলেন, আমি এটা বৃহত্তর মানবগোষ্ঠীর অর্থে বুঝিয়েছি। এটা তো ধর্ম সম্প্রদায়ের যারা নেতা তারা হয়তো করছেন। কিন্তু এটা যদি আমরা প্রত্যেকে অনুভব করি, চিন্তা করি এবং ভাবি; তাহলে সেটা কিছুটা লাঘব হবে এবং পরবর্তী বছরের জন্য আমরা সতর্ক হব। যাতে আর কোনো পদস্খলন না হয়। এই কারণেই মহামতী গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, ‘আত্মদীপ হও’। আত্মদীপ মানে নিজের অন্তরের আলোতে তুমি পথ চলো। এটা একটা গভীর তাৎপর্যময় কথা।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ভগবান বুদ্ধ সমগ্র মানবজাতির জন্য বলেছেন। তোমার অন্তরের আলো কখন বিচ্ছুরিত হবে? যখন অন্তর পরিশুদ্ধ হবে, তখনই চিত্তের মধ্য দিয়ে অন্তরে যে আলো জ্বলবে, সেই আলোতেই পথ চলা যাবে। আমি চিনব সঠিক পথ কোনটা, সরল-সোজা পথ কোনটা। আমাদের ইসলাম ধর্মে আছে ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’—সরল-সোজা পথে চলার কথা বলা হয়েছে।


তিনি বলেন, এই যে আত্মদীপ হওয়ার মধ্য দিয়ে, সরল-সোজা পথে চলার যে বাণী নিঃসৃত হয়েছে, মহামানবের মুখ দিয়ে, তিনি যে দর্শন দিয়েছেন, তার জন্য একটি ধর্ম সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। তিনি সংঘ তৈরি করেছেন, কিন্তু তার বাণী তো শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার বাণী চিরন্তন, সর্বজনীন। সকল ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে তার বাণী মানবজাতির কল্যাণের জন্য বিস্তৃত হয়েছে। তার করণীয় কাজগুলো যদি আমরা দেখি, সেখানেও তিনি যা করে গেছেন, সেটাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করলে তা গোটা মানবজাতির কল্যাণের জন্যই কাজে লাগবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল বড়ুয়া এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুবৃন্দ।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com