রাজনীতি
জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা দুনিয়ার সামনে সমুন্নত করব
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৯
বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা দুনিয়ার সামনে সমুন্নত করব
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আমাদের বিপ্লবী তরুণ সমাজকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে এই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে দুনিয়ার সামনে সমুন্নত করব বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ৮ দলের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো। আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের এই আট দলীয় জোট আর আট দলে থাকছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আট দলের এই মিছিলে শরিক হওয়ার জন্য আসছে, এইবার পরিধি আরও বাড়বে। সেজন্য নতুন যে বাংলাদেশ আমরা চাই, সেই নতুন বাংলাদেশ মানে হলো—স্বাধীনতার পরে যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের চরিত্র যা ছিল, কোনো দল বা অতীতের শাসকরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই, সন্ত্রাসের অভিযোগ নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই, খুনের অভিযোগ নেই। সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।


তিনি বলেন, আগামীতে আমরা এমন বাংলাদেশ আনতে চাই, এমন সরকার আমরা গড়তে চাই, যেখানে আমরা দুর্নীতিকে ‘না’ বলব, লাল কার্ড দেখাবো। দুর্নীতি চলবে না, সন্ত্রাস চলবে না, ভিন্নমতের ওপরে দমন-পীড়ন চলবে না। আমরা নৈতিক, উৎপাদনমুখী ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের বিপ্লবী তরুণ সমাজকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে এই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে দুনিয়ার সামনে সমুন্নত করব। আমাদের এই আট দলের সম্প্রসারিত জোট আগামী দিনে নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে ইনশাআল্লাহ সাহায্য করবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো আমরা মেনে নিয়েছি যে আমরা নির্বাচনে যাব। কিন্তু নির্বাচনের ডেট শিডিউল করলেও সেই নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে কিনা—তা নিয়ে এই জাতির সামনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্দোলনে আমরা বলেছিলাম পাঁচ দফার কথা—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, পিআর পদ্ধতি, জুলাই সনদের স্বীকৃতি, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এবং ফ্যাসিস্টরা যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের দৃশ্যমান বিচার। আমরা অনেক দাবি করেছিলাম, আমাদের দাবির আংশিক পূরণ হয়েছে কিন্তু অধিকাংশই এখনো পূরণ হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তিদের কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বারবার প্রধান উপদেষ্টা এবং কমিশনের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, একই দিনে নির্বাচন হলে কী কী সংকট তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদে যে ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার হয়েছে এবং আরও অনেক বিষয়ে যে আমরা একমত হয়েছি—সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পদের ব্যাপারে অনেক সংস্কার হয়েছে। এই সংস্কারের বিষয়গুলো দেশবাসীকে আগে জানাতে হবে। ইলেকশন কমিশন তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে, সরকার বিভিন্ন প্রকাশনা দিয়ে জাতিকে জানাবেন—আমরা কোনটাকে ‘হ্যাঁ’ বলবো, কোনটাকে ‘না’ বলবো।


তিনি বলেন, জনগণ জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চায়। আমরা এমন কোনো সংকটে সরকারকে ফেলতে চাই না, যাতে বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙে যাক। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদেরকে বারবার বলে যাচ্ছি, সুযোগ আছে আপনারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। তা না হলে একটা বিভ্রান্তির ধূম্রজাল আপনারা তৈরি করবেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে কম আসবে। গণভোটে ভোট কম পড়বে, না বুঝে হাতে সিল মারবে, বুঝতে পারবে না। এই সংকট দূর করার দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com