
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। আহত হয়েছেন আরো বহু মানুষ। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল গার্ড। সূত্র বিবিসি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কর্দোবা শহরের কাছে আদামুজ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদ্রিদগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত লাইনে ঢুকে পড়ে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এতো মানুষ প্রাণ হারান।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি ট্রেনে মোট প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। জরুরি সেবাদানকারীরা ১২২ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ শিশুসহ ৪৮ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি। গুরুতর আহত ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ৬টা ৪৫) দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ট্রেনটি যাত্রা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর সোজা একটি রেলপথে লাইনচ্যুত হয়।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে দুর্ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সব রেল বিশেষজ্ঞই এ দুর্ঘটনায় বিস্মিত। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী ট্রেনটির কয়েকটি বগি পাশের মাটির ঢিবির দিকে ছিটকে পড়ে। পরিবহনমন্ত্রী জানান, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন ওই ট্রেনটির সামনের দিকের বগিতে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া দ্বিতীয় ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার।
দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। কর্দোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যকার সব রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সারাদিন এসব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানায়, মালাগা থেকে আসা ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেনফে পরিচালিত ট্রেনটিতে ছিলেন প্রায় ১০০ যাত্রী।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। পরিবহনমন্ত্রী জানান, তদন্তের ফল পেতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি একে দেশের জন্য ‘গভীর বেদনার মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়াও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনের। দেশটির ৫০টির বেশি শহরকে যুক্ত করেছে এই রেল ব্যবস্থা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]