ঈদের আগেই বাড়ল মাংস-মুরগির দাম, সরবরাহ বেড়েছে তেলের
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৫
ঈদের আগেই বাড়ল মাংস-মুরগির দাম, সরবরাহ বেড়েছে তেলের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে বেড়েছে দাম। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে। ক্রেতা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।


শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।


ঈদের বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন। ফলে অনেকেই আগেভাগে বাজার করছেন। এতে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মুরগির চাহিদা। আর সেই চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও।


বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।


বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি-সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। সোনালি মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৭০ টাকা কেজি। আর ব্রয়লার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।


খিলক্ষেত কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রাহাত বলেন, প্রতি বছরই ঈদের কয়েকদিন আগে মুরগির দাম বাড়ে। তবে এবার পাইকারি বাজারে ১০ রোজার পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে চাহিদা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। ফলে দাম কমার সম্ভাবনা কম।


মুরগির পাশাপাশি বেড়েছে গরুর মাংসের দামও। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে এখন ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসায় মাংসের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মাছের বাজারে ভিড় করছেন। অনেককে আবার মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।


কয়েকদিন ধরে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা গেলেও এখন সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের তেলই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংকটের সময় লিটারে চার থেকে সাত টাকা বাড়া দাম এখনো বহাল রয়েছে।


অন্যদিকে ঈদের এখনো ৭ থেকে ৮ দিন বাকি থাকলেও সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলা সেমাই নামে পরিচিত সাধারণ মানের সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।


সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। চাহিদা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।


বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা এখন শপিংয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কমেছে।


সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, এখন বাজারে ক্রেতা কম। অনেকেই কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, আবার অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন। এজন্য সবজির চাহিদা কমে গেছে। চাহিদা কম থাকায় দামও কিছুটা কমেছে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com