শিক্ষাই সমাজের প্রধান শক্তি: পাবিপ্রবি উপাচার্য
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৬
শিক্ষাই সমাজের প্রধান শক্তি: পাবিপ্রবি উপাচার্য
পাবনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এ কথা বলেন। আমাদের শিক্ষককে সম্মান করা, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁকে মর্যাদা দিতে হবে। একটি জাতির উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষার উপর। “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের ৬০ বছর” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬’ সারা দেশে পালন করা হচ্ছে।


সোমবার (৫ অক্টোবর) পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।


বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, পাবনার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। আলোচনা সভায় পাবনার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ছাড়াও শিক্ষক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হয়।


উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। তিনি বলেন, মানুষ তৈরির কারিগর হলেন শিক্ষক, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর পুরো জীবন বদলে দিতে পারেন, তাদের মনে বীজ তৈরি করে দিতে পারেন এবং সে বীজ তৈরি করে দিতে হবে। শিক্ষকদের সম্মান করব, শিক্ষকের কথা শুনব, তাঁর পেশাকে সম্মান করব এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতি দিব। শিক্ষাই হবে সমাজের প্রধান শক্তি।


তিনি বলেন, শিক্ষক হলেন এমন একজন মানুষ, যিনি এক প্রজন্মের অর্জিত জ্ঞান, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেন এবং সেই প্রজন্মকে নতুন কিছু সৃষ্টি করার সক্ষমতা দেন। এই অর্থে শিক্ষক নিজে শুধু জ্ঞান বিতরণ করেন না; তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণের সক্ষমতা সৃষ্টি করেন।


পৃথিবীতে এমন কোনো শিক্ষিত লোক নেই, যিনি কোনো শিক্ষকের ছাত্র ছিলেন না। সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, সমাজবিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা অন্য যে-কোনো পেশারই হোক না কেন সবাই কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র ছিলেন।


তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। নীতি নির্ধারণে শিক্ষকের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পলিসি তৈরিতে প্রতিনিধি থাকতে হবে, তাঁদের কাজ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে, প্রফেশনে উন্নয়ন থাকতে হবে। শিক্ষকদের প্রযুক্তি ও নতুন নতুন শিখন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কাজের চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষা দানে ক্লাসে ভালো পরিবেশ দিতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশ ভালো থাকতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আরও ভালো করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক সম্পর্কে থাকতে হবে। আমাদের ভালো মানুষ তৈরি করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, ঈদ বা পূজার ছুটিতে বাড়ি গেলে কমপক্ষে একজন স্কুলের শিক্ষকের খবর নেওয়া এবং সাধ্যমতো শিক্ষকের বাড়িতে কিছু ফলমূল বা মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন উপাচার্য। বাবা-মায়ের দোয়ার পাশাপাশি শিক্ষকের দোয়াও আপনাকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com