অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৪
অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশবরেণ্য শিক্ষকবৃন্দ।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমাদের দৃঢ় অভিমত, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। আমরা মনে করি, এই তদন্ত ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তদন্তপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা অবস্থায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একজন শিক্ষককে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা এবং অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ভিন্নমত চর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত করার যে-কোনো প্রচেষ্টা আমরা উদ্‌বেগের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। ভিন্নমতের জবাব হওয়া উচিত যুক্তি, তথ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে—প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে নয়; বরং ন্যায়, স্বচ্ছতা, যুক্তি, মুক্তচিন্তা এবং অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমুন্নত থাকে।


কোনো শিক্ষক তাঁর মত, বক্তব্য বা অবস্থানের কারণে হয়রানির শিকার হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য গভীরভাবে উদ্‌বেগজনক।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা ৩ দাবি করেন। দাবিগুলো হলো-


১. অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।


২. অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।


৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।


৪. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।


৫. যে-কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com