এলিভেটেডে মরদেহ উদ্ধার
লুঙ্গির কোচে টাকা দেখে ইসমাইলকে হত্যা করে বাসচালক-হেলপার
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪১
লুঙ্গির কোচে টাকা দেখে ইসমাইলকে হত্যা করে বাসচালক-হেলপার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে স্কচটেপ মারা মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সে ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার তিনজন ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি পরিবহনের চালক, সুপাইরভাইজার ও হেলপার।গ্রেফতারকৃতরা হলো- বাস চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও বাসের হেলপার মো. মনির হোসেন।


রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।


‎পুলিশ জানায়, বাসের সুপারভাইজার যাত্রী ইসমাইলকে ঘুমিয়ে যেতে বলে। তাকে বলা হয়, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে তাকে ঘুম থেকে ডেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ইসমাইল ঘুমিয়ে গেলে বাসের অন্যযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। এবং সে ঘুমিয়ে থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে নির্ধারিত স্থানে না নামিয়ে সুযোগ বুঝে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়।


‎‎‎ফারুক হোসেন বলেন, গত (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পাওয়া যায়।


পরে বনানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মরদেহের মুখ এবং দুই হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল এবং গলায় কালো দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে এই মরদেহ সুরতহাল সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এরপর নিহত ব্যক্তির আঙ্গুলের চাপে সাহায্য নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম ছিল ইসমাইল হোসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে নিহতের ছবি দেখে শনাক্ত করে।
‎
‎তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইসমাইল হোসেন জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।


‎তিনি বলেন, ঘটনার পর বনানী থানা পুলিশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। এবং ফুটেজ পর্যালোচনার এক পর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় বা একটা বাসকে আমরা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করি। পরে জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাস মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং বাসের হেলপার মো. মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসের চালক সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করা হয়।
‎
‎তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।


জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গত (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড় ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। এক পর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ইসমাইল হোসেন এর কাছ থেকে বাসের ভাড়া নেওয়ার সময় তার কোমরের লুঙ্গির কোচ থেকে সে ভাড়া বের করে দেয়। যখন সে লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে তখন তার লুঙ্গির কোচের মধ্যে টাকাগুলো দেখা যায়। এটি সুপারভাইজার লক্ষ্য করে। বিষয়টি সে পরবর্তীতে বাস চালককে অবগত করে যে, এই ব্যক্তির কাছে অনেক টাকা আছে। সম্ভবত সে কোন ব্যাপারি হতে পারে।
‎
‎এই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা যাতে নেওয়া যায় সেই পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসটি চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে এই ইসমাইলের মুখ এবং হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে। এবং আরেকটি গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
‎
‎তিনি বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বনানীতে আসে। এখানে থেকে তারা ইউটার্ন করে উল্টো পথে আবার এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের মরদেহ সেখানে ফেলে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো টাকা নয় আড়াই লাখ টাকার কথা স্বীকার করে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com