কুড়িগ্রামে নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, আমন ধান চাষে বাড়ছে ব্যয়
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৫:১৭
কুড়িগ্রামে নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, আমন ধান চাষে বাড়ছে ব্যয়
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ধানের চারা রোপণ করতে ব্যয় বেড়েছে কৃষকদের। ক্ষেতে পানি না থাকায় সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে জমি তৈরি করে ধানের চারা রোপণ করছে তারা। এতে গতবারের চেয়ে আবাদের ব্যয় বেড়েছে অনেকখানি।


কৃষি বিভাগ বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় AWD (Alternate Wetting and Drying) এর মতো বিকল্প পদ্ধতি মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে, যা মূলত পর্যায়ক্রমে জমি শুকানো করা ও ভেজানো বা পানি দেওয়া বোঝায়। এজন্য ২০ সেমি একটি প্লাস্টিক পাইপ মাটির ভিতর ১০ সেমি বা ৪ ইঞ্চি গভীর করে বসাতে হয়। এরপর এই পাইপের মধ্যে দিয়ে তাকালে যদি নিচে পানি থাকে বা ভেজা দেখা যায় তাহলে সেচ না দিলেও চলে। আর যদি পাইপের মধ্যে তাকালে পানি না দেখা যায় কিংবা খরার কারণে জমিতে ফাটল দেখা যায় তাহলে পুনরায় সেচ দিতে হয়। এর সুবিধা হচ্ছে, জমিতে পানি না থাকলেই যে গাছ খরায় ভোগে এমন টা না। ফলে পাইপের মধ্য দিয়ে পানির স্তর দেখে সেচ দিলে পানি সাশ্রয় হয় এবং কম সেচে চাষাবাদ করা যায়। এছাড়া খরা এড়াতে কম জীবনকালের আধুনিক জাতসমূহ যেমন ব্রি ধান-৮৭, ৯৫, ১০৩ জাতের চারা রোপণ করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।


তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চিলমারীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৫৯ মিলিমিটার। কিন্তু গত বছর আগস্ট মাসে চিলমারীতে ২৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। আগস্ট মাসে চিলমারীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩২৭.৬ মিলিমিটার।


তথ্য আরও বলছে, জুলাইয়ে চিলমারীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫২৫.৫ মিলিমিটার হলেও। চলতি বছর চিলমারীতে জুলাইয়ে মাত্র ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিক অপেক্ষা অনেক কম।


এদিকে, সময়মতো বন্যা না হওয়াতেও সেচের মাধ্যমে জমি চাষের উপযোগী করতে হচ্ছে। অথচ এসময় বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে জমি নিমজ্জিত থাকার কথা। কিন্তু পানির অভাবে সেচ দিতে হচ্ছে।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র হতে জানা গেছে, বাংলাদেশে বন্যার প্রধান সময়কাল হলো জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত, যা মূলত বর্ষাকাল। বিগত সময়ে চিলমারীতে বড় বন্যাগুলো হয় জুলাই–আগস্ট মাসে, তবে কোনো কোনো বছর জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকে। চলতি বছর জুন-জুলাই পেরিয়ে মধ্য অগাস্টেও চিলমারীতে বন্যার দেখা মেলেনি। ব্রহ্মপুত্র নদের পানিপ্রবাহ ছিল বিপদসীমার অনেকটাই নিচে। চিলমারীতে গত ৫ জুন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির স্তর সর্বোচ্চ ২৩.০৭ মিটার PWD-তে পৌঁছায়, যা বিপদসীমা (২৩.২৫ মিটার PWD)-এর চেয়ে ১৮ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং আগস্টের ১৬ তারিখ ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির স্তর ২২.৬৩ মিটার PWD-তে পৌঁছায়, যা বিপদসীমার চেয়ে ৬২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।


উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এবছর আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, এর মধ্যে ৬৫% অর্থাৎ ৫ হাজার ২৩২ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে এখনো শতভাগ অর্জন করা যায় নি।


থানাহাট ইউনিয়নের মজিদের পাড়ে দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টি নাই, বন্যা নাই। এখন খরচ বেশি হয়েছে। জমি হালচাষ করার মতো তো পানি নাই। মেশিন দিয়ে পানি নিয়ে জমি চাষ করে ধান রোপণ করা লাগে। এমনি সময় তো বন্যার পানি জমে থাকে সেই পানিতেই হালচাষ করে ধান রোপণ করা যেত এখন তো হয় না।


ফরিরের কুটি এলাকার কৃষক মমিনুল ইসলাম জানান, সেচের মাধ্যমে পানি নিতে হচ্ছে ২০০ টাকা কাঠা প্রতি অর্থাৎ বিঘা ৪ হাজার টাকা শুরু পানি নিতেই দেয়া হবে। এমনি তো অনেক খরচ আছেই এখন বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। বৃষ্টি হলে তো এই টাকা খরচ হত না।


চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় জানান, আমন ধান সম্পূর্ণ রূপে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে চারা রোপণ করা হয়। চিলমারী উপজেলায় একাধিকবার বন্যার আশঙ্কা থাকায় স্বাভাবিক বন্যায় প্লাবিত হয় এরকম জমিত দেরিতে রোপণ করে থাকে। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় দেরিতে রোপণের পাশাপাশি কৃষকদের সেচ দিতে হচ্ছে এতে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় এই সংকট সময়ে কৃষকদের সেচ দিয়ে আমন ধান রোপণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আমন ধান রোপনকৃত জমিতে এডব্লিউডি(AWD) অনুসরণপূর্বক সম্পূরক সেচ প্রদান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


বিবার্তা/রাফি/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2024 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com