বজ্রপাতে চার জেলায় ১০ জনের মৃত্যু
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৪, ০০:২৭
বজ্রপাতে চার জেলায় ১০ জনের মৃত্যু
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

চট্টগ্রাম বিভাগের চার জেলায় বজ্রপাতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুমিল্লার চার উপজেলায় চারজন, রাঙ্গামাটির দুই উপজেলায় তিনজন, কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুইজন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।


কুমিল্লা


কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।


মৃত ব্যক্তিরা হলেন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সূর্যনগর গ্রামের আতিকুল ইসলাম (৫০)। চান্দিনার কিছমত শ্রীমন্তপুর গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে মারা যান দৌলতুর রহমান (৪৭) নামে এক কৃষক। বুড়িচংয়ের পাঁচোড়া নোয়াপাড়া গ্রামে আলম হোসেন নামে এক যুবক এবং দেবিদ্বারে ধামতী গ্রামে মোখলেসুর রহমান (৫৮) নামে এক ব্যক্তি মারা যান।


কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, আমরা বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংবাদ পাচ্ছি। সঠিক সংখ্যা জানতে আরও সময় লাগবে।


রাঙামাটি


পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দুই উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি শহরের সিলেটিপাড়া ও বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপাকারী ইউনিয়নের মুসলিম ব্লকে এবং দুপুরে একই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের লুইনথিয়ান পাড়ায় এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।


মৃতরা হলেন সদর উপজেলার সিলেটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজির (৫০), বাঘাইছড়ি উপজেলার রুপাকারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লক গ্রামের লাল মিয়ার স্ত্রী বাহারজান বেগম (৫৫) ও সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের লুইনথিয়ান পাড়ায়বেটলিং মৌজার কারবারি মিথুন ত্রিপুরার বোন তনিবালা ত্রিপুরা (২৫)।


রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর বলেন, সকালে শহরের সিলেটিপাড়া থেকে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি বজ্রপাতে মারা গেছেন।


অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে মোট দুইজনের মৃত্যু হয়েছে আজ। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থকে প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।


কক্সবাজার


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে দুই লবণচাষির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কোদাইল্যাদিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের ছড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


মৃতরা হলেন উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া এলাকার জমিরের ছেলে দিদারুল ইসলাম (৩৫) ও রাজাখালী ইউনিয়নের ছড়িপাড়া এলাকার জামালের ছেলে মো. আরমান (২৫)।


মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মগনামার কোদাইল্যাদিয়ায় ভোরে দিদারুল ইসলাম লবণের মাঠ পরিচর্যা করতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, গতকাল রাতে প্রচুর বজ্রপাত হয়। ভোরেও বজ্রপাত অব্যাহত থাকে। রাতের বৃষ্টিতে লবণের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষি আরমান তা পরিচর্যা করতে যান। ওই সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।


খাগড়াছড়ি


খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ঝাড়ো বাতাসে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে ইয়াছিন আরাফাত (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।


ইয়াছিন আরাফাত বড়নাল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম পাড়ার বাসিন্দা ইউসুফ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।


জানা যায়, সকালে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে বাড়ির উঠানের পাশেই কাঁচা আম কুড়াতে যায় দুই ভাই। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ছোট ভাই প্রাণে বেঁচে গেলেও বড় ভাই ইয়াছিন আরাফাত ঘটনাস্থলেই মারা যায়।


বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, বজ্রপাতে ইয়াছিন আরাফাতের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী বলেন, সকালের দিকে বজ্রাঘাতে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যু বড়ই মর্মান্তিক। তাদের পরিবারকে প্রশাসনিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com