পাসপোর্ট অফিসে সক্রিয় দালাল চক্র!
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৭
পাসপোর্ট অফিসে সক্রিয় দালাল চক্র!
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পাসপোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলেও কমেনি হয়রানি। বরং হয়রানির পরিমাণ আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন আবেদন জমা দেয়া ও পাসপোর্ট রিসিভ করার জন্য অফিসগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। তাই কার্যক্রম পরিচালনা করতেও হিমিশিম ক্ষেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। প্রচন্ড ভিড়ে পাসপোর্ট অফিসে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধিও। পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রের সদস্যরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দালালরা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অধিদফতর ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমনটাই দেখা গেছে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ মার্চ ই-পাসপোর্ট ও মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) বায়োমেট্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও জরুরি আবেদনকারী ছাড়া নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়। এরপর গত ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানায় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।


অধিদফতরের পরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও পরিদর্শন) মো. সাঈদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক এমআরপি এবং ই-পাসপোর্টের (নতুন ও রি-ইস্যু) কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে আগের জারি করা সব আদেশ বাতিল করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর থেকে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যানার ও দিকনির্দেশনামূলক তথ্য সম্বলিত বিভিন্ন প্লেকার্ড টানানো হয়েছে পাসপোর্ট অধিদফতরে। তবে এসব নিদের্শনা মানতে নারাজ পাসপোর্ট করতে আসা লোকজন।


সরেজমিন আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ও ভিতরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সম্মলিত পোস্টার টানানো আছে। ওই পোস্টারে পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে আগমনকারীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এমন স্লোগানের ব্যানার টানানো হলেও সেখানে কেউ সুরক্ষিত নয। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ সুরক্ষার চেষ্টাও করতে দেখা যায়নি। পাসপোর্ট অফিসের বাইরে হাত ধোয়ার কথা ব্যানারে লেখা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।


পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে আসা করিম নামের এক ব্যক্তি বিবার্তাকে বলেন, আমি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেতে এসেছি। সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক লম্বা লাইন ছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে আমি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছি।


লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রহিমা খাতুন নামের এক নারী বলেন, সকালে পাসপোর্ট জমা দেয়ার জন্য এসেছি। স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপরও আবেদন জমা দিতে পারি নাই। সময় শেষ হওয়াতে আগামীকাল আবার আসতে বলা হয়েছে। তাই এখন ফিরে যাচ্ছি।


পাসপোর্ট অফিসের বাইরে গিয়ে দেখা গেছে, দালাল চক্রের সদস্যরা ওৎপেতে রয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের আসা লোকজনকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। এক পর্যায়ে আবেদনকারী সেজে ওই চক্রের সদস্যদের সাথে কথা বলা হয়।


এ সময় রহিম নামের এক ব্যক্তি জানান, তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করানো হলো কোনো হয়রানির শিকার হতে হয় না। তবে তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট জমা দিয়ে নির্ধারতি ফি ছাড়াও আরো সাত হাজার থেকে ১০ হাজার মত বাড়তি টাকা দিতে হয়। এছাড়াও কোনো তদন্ত ছাড়াও পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাওয়া আশ্বাস দেন ওই রহিম।


অন্যদিকে, পাসপোর্ট অফিসের বাইরে কয়েকটি কম্পিউটারের দোকান রয়েছেন। সেই দোকানগুলোতেও গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছেন আবেদনকারীদের। দোকানীরা আবেদনকারীদের কাছে থেকে বাড়তি ৫০০ টাকা নিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়।


পারভেজ নামের এক দোকানী বলেন, আবেদনকারীরা অনেক সময় ফরম পূরণ করতে পারে না। তাই তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে তাদের সহযোগিতা করা হয়। তবে ভোগান্তির কথা অস্বীকার করেন তিনি।


ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিবার্তাকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পাসপোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে আবেদনকারী বেশি হওয়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে সাধ্যমত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করা হচ্ছে।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দালাল চক্রের সদস্যরা সব সময়ই সক্রিয় ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com